Sunday, November 30, 2025

ইউনূসের প্রিয় দল জামায়াতের এবার পতাকা অবমাননা, জনগণই দিল ঠেকিয়ে

Share

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের উদ্যোগে শুক্রবার ভাষানটেক এলাকায় আয়োজিত যুব-ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশকে ঘিরে ব্যবহৃত মঞ্চের লাল-সবুজ রঙ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, পতাকার ডিজাইনে এই মঞ্চ করা হয়েছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অপমান করার জন্য। কারণ জামায়াত এ দেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। এদিকে জনগণের তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এই মঞ্চ পাল্টিয়েছে তারা।

জামায়াতের সমাবেশের লাল-সবুজের সিঁড়ি ও কার্পেটের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর এটিকে স্বাধীনতার রক্তে রঞ্জিত লাল-সবুজ পতাকা অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, এমন ডিজাইন শহীদদের ত্যাগ এবং দেশের মর্যাদাকে খাটো করার প্রচেষ্টা।

সমালোচকদের দাবি, দেশের পতাকা জাতীয় অহংকার ও স্বাধীনতার প্রতীক। স্বাধীনতার সংগ্রামে হাজারো মানুষের জীবন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই পতাকাকে পদদলিত করা যায় না। তাই এমন অভব্য ডিজাইন দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হেয় করার সামিল।

অনেকে মনে করছেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় প্রতীককে হেয় করার চেষ্টা। লাল-সবুজের সিঁড়ি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা স্বাধীনতার ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে অগ্রাহ্য করছে। সমালোচনার অন্যতম কারণ হলো, পাকিস্তানি সবুজ রঙের ব্যবহার লাল-সবুজের ওপর সরাসরি ছাপিয়ে গেছে, যা অনেকের কাছে পতাকার প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিছু মানুষের মতে, এমন ডিজাইন একদিকে জাতীয় অনুভূতিকে ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে হেয় করছে। এ ধরনের সেট ডিজাইন জাতীয় রঙের মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় চেতনা বজায় রাখার স্বার্থে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ আজ নতুন এক ষড়যন্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও পাকিস্তানি চিন্তাধারা থেকে প্রেরণা নেওয়া গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস নেতৃত্বে গ্রহণের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির। একাত্তরের বিরোধী এই শক্তি এখন উঠেপড়ে লেগেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো নিশ্চিহ্ন করতে। আর এর পেছনে নিশ্চুপ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক মাত্রা লাভ করছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ইতিহাসকে পুনর্লিখনের প্রচেষ্টা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনাগুলো ধ্বংসের অভিযোগ তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের” পর দেশের ক্ষমতাসীন মহলে ইতিহাস ও মূল্যবোধ পুনর্লিখনের চেষ্টা হচ্ছে, যার ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ ও তাদের স্মৃতি বিপন্ন। এই ধরনের ঘটনা দেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় সমৃদ্ধির জন্য হুমকি স্বরূপ।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত