Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সূত্র বলছে, তিনি ২৮ নভেম্বর রাতেই মারা গেছেন। তবে মায়ের মৃত্যুর পরও দেশে আসছেন না তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সবশেষ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
তারেকের এই স্ট্যাটাস থেকে স্পষ্ট দেশের ফিরে আসার বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু তাহলে এতদিন যে খবর বের হলো নভেম্বরেই ফিরবেন বা ওমরাহ শেষে ডিসেম্বরে ফিরবেন তা কীভাবে শুরু হলো?
সূত্র বলছে, এগুলো ছড়িয়েছে বিএনপির কিছু জ্যেষ্ঠ নেতারা। যাতে তারা ভোটের কথা বলে রমরমা মনোনয়ন বাণিজ্য করতে পারে। আর এর শুরু হয়েছিল জুনে লন্ডনে হওয়া তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে।
ওই বৈঠকে তারেকের সঙ্গে ইউনূসের একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইউনূসই ক্ষমতায় থাকবেন আর এদিকে তারেক পাবেন মোটা অর্থ। আর এ প্রমাণ হলো করিডোর-বন্দর বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিরোধিতা ও নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মাঠে ছিল বিএনপি। কিন্তু ওই সফরের পর এ নিয়ে বিএনপির আর কোনো কথা নেই।
সূত্র বলছে, তারেকের মনোনয়ন বাণিজ্য এখন রমরমা। মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি ১০০ কোটি টাকা করে নিয়েছেন। কারণ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
এরইমধ্যে তারেকের ভাই কোকোর মৃত্যুর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে তারেক। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আরাফাত রহমান কোকো গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—যখন কোকো বিদেশে পরিবারের সাথে বসবাস করছিলেন, আর শেখ হাসিনা ছিলেন তৎকালীন সময় জেলে বা পরবর্তীতে বাংলাদেশে, তখন কোকোর মৃত্যুর সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক কোথায়? এটা স্পষ্ট মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি নেতাদের এই অভিযোগ শুধুই জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র।
সূত্র বলছে, এখন তারেক তার মায়ের মৃত্যু নিয়ে নতুন নাটক করছে। তার ক্লিনিক্যালি মৃত মা কে সে লন্ডন নিয়ে যাবে। সেখানে দুই তিন দিন পরে মৃত বলে ঘোষণা দেবে। যাতে সে জানাযা পরতে পারে। দেশের মানুষের কাছে তার অকৃতজ্ঞ পুত্র হিসেবে যেই পরিচিতি সেটা যেনো কিছুটা ম্যানেজ করা যায়। তার পরে আবারো নির্বাচনের কথা বলে নানান ফন্দি ফিকির করে লন্ডনেই বসে থাকবে।
তারেকের না আসার আসল রহস্য কী ?
আসলে তারেক ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী এক্সট্রা অর্ডিনারি হিউমেনিটেরিয়ান অনুমতি নিয়ে আছে। তাকে স্থায়ী নিবাসের অনুমতি দেয়া হয়নি। কারণ তিনি আমেরিকার খাতায় এখনো কালো তালিকা ভুক্ত। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা এবং আরো অন্যান্য ঘটনায় আমেরিকা তাকে যে কালো তালিকাভুক্ত করেছে সেটার কারণে ব্রিটেন তাকে স্থায়ী অনুমোদন দিতে পারবে না। ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া কানাডা আমেরিকা এদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট চুক্তি আছে। যার কারণে এক দেশে কালো তালিকাভুক্ত করলে অন্যরা সেটা অনার করে। তিনি থাকতে পারবে ব্রিটেনে, কিন্তু বের হলে আর ঢুকতে পারবেনা। তাই তার ভয় ক্ষমতার চেয়ার প্রস্তুত না হলে, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তোড়জোর, ভারত আমেরিকার সে সমীকরন বিএনপির গনেশ উল্টে গেছে নাকি পাল্টে গেছে কেউ জানেনা। তাই তারেক শঙ্কিত।
তবে ব্রিটিশরা তাকে বের করতে পারবে না কারণ মানবাধিকার আইন অনুযায়ী তার কাছে রয়েছে স্থায়ী অনুমতি। কিন্তু বের হলে সেই অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হবে। আর বাংলাদেশ থেকে সবশেষ যখন তারেক বেরিয়েছিল তখন দেশে আর রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়েই বের হয়েছিল। আর তার কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্টও নেই। এ অবস্থায় তারেকের কাছে লন্ডন বসে বসে মনোনয়নের ব্যবসা করাটাই সহজ।
আরো পড়ুন

