Share
ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে পাকিস্তানি নাগরিক আহমেদ খানের মৃত্যু হয়তো সাধারণ সংবাদ হিসেবেই থেকে যেত, যদি না এর পেছনে লুকিয়ে থাকত একটি ভয়াবহ বাস্তবতার ইঙ্গিত। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ আবারও পাকিস্তানের ছায়ার নিচে ঢুকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আর এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্য দায়ী মূলত দুইজন ব্যক্তি: নোবেল বিজয়ী সুদখোর মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার অনুগত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
গত বছরের জুলাই মাসে যে দাঙ্গা বাংলাদেশকে রক্তের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিল, তার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিদেশি রাষ্ট্রের অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, এবং সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন মিলে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়। ক্যু’র মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার দোসর ওয়াকার যে পথে হাঁটছেন, তা বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের উপনিবেশে পরিণত করার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।
আহমেদ খান নামের এই পাকিস্তানি ‘টেকনিশিয়ান’ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে কি টেকনিশিয়ানের অভাব পড়ে গেছে যে পাকিস্তান থেকে লোক আনতে হবে? আরও বড় প্রশ্ন হলো, আগস্ট ২০২৪ এর পর হঠাৎ করে কেন পাকিস্তানি ‘ব্যবসায়ী’ আর ‘প্রকৌশলী’দের ঢল নামল বাংলাদেশে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে চলে আসবে ইউনুসের অবৈধ শাসনের কথা।
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সম্প্রতি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনা এবং আইএসআই কর্মকর্তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের চিকেনস নেক এলাকায় সফর করেছেন। এই তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ আইএসআই-এর কার্যকলাপ কখনোই নিরীহ হয় না। তারা যেখানে যায়, সেখানে অস্থিরতা, সন্ত্রাস আর রক্তপাতের বীজ বপন করে যায়। বাংলাদেশের সীমান্তে তাদের উপস্থিতি মানে হলো এদেশকে তারা তাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য ব্যবহার করতে চাইছে।
ইউনুস এবং ওয়াকার এই পরিস্থিতিতে কী ভূমিকা পালন করছেন? উত্তর খুবই পরিষ্কার। তারা পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষায় সচেষ্ট। নইলে কীভাবে সম্ভব যে দেশে হঠাৎ এত পাকিস্তানি নাগরিক চাকরি এবং ব্যবসার নামে ঢুকে পড়ছে, অথচ সরকারের তরফ থেকে কোনো সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে না? মুহাম্মদ ইউনুস যিনি সারাজীবন ক্ষুদ্র ঋণের নামে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তিনি এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও বিক্রি করে দিতে দ্বিধা করছেন না।
আহমেদ খানের পাসপোর্ট এবং ভিসা যাচাইয়ে দেখা গেছে তিনি ‘টেকনিশিয়ান’ ভিসায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার ফোনের কল রেকর্ড এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কেন? কারণ হয়তো সেখানে এমন কিছু তথ্য আছে যা প্রকাশ হলে পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ চাকরির ছদ্মবেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো আইএসআই-এর পুরনো কৌশল। কর্ণফুলী অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র, এবং সেখানে এর আগে কখনো পাকিস্তানি নাগরিকের চাকরির খবর শোনা যায়নি। হঠাৎ এখন কেন?
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন, তিনি কি আদৌ জানেন যে দেশে কী ঘটছে? নাকি তিনি জেনেবুঝেই চোখ বন্ধ করে আছেন? একজন সেনাপ্রধানের প্রথম দায়িত্ব দেশের সীমান্ত রক্ষা করা, দেশের ভেতরে শত্রুর অনুপ্রবেশ ঠেকানো। কিন্তু ওয়াকার সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করছেন। যে সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়েছিল, সেই সেনাবাহিনীর একজন প্রধান আজ পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন বলেছেন যে তারা সতর্কতার সাথে তদন্ত করবেন। কিন্তু তদন্তের কী হবে যদি তদন্তকারীরাই সন্দেহের ঊর্ধ্বে না থাকেন? পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলা হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি সত্যিই সত্য উদঘাটন করতে চায়? নাকি এটাও আরেকটা প্রহসন?
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু কোন সম্পর্ক? ১৯৭১ সালে পাকিস্তান এদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছিল, সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে বিক্রি করে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। ইউনুস এবং ওয়াকার যদি মনে করেন যে তারা পাকিস্তানের সাথে ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ গড়ে তুলে দেশের মঙ্গল করছেন, তাহলে তারা ভুল করছেন। তারা আসলে দেশদ্রোহিতা করছেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। মানুষ প্রশ্ন করছে, আমরা কি আবার ১৯৭১-এর আগের দিনগুলোতে ফিরে যাচ্ছি? পাকিস্তানের উপনিবেশ হওয়ার জন্য কি আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম? ইউনুস এবং ওয়াকার যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
পাকিস্তানি ‘টেকনিশিয়ান’-এর মৃত্যু একটা ছোট ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটা একটা বড় সত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ আজ হুমকির মুখে। আর এই হুমকি বাইরের শত্রুর চেয়ে ভেতরের শত্রুদের কারণে বেশি বিপজ্জনক। ইউনুস এবং ওয়াকারের মতো ক্ষমতালোভী আর স্বার্থান্বেষী মানুষেরা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এদের থামানোর দায়িত্ব প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের।
আরো পড়ুন

