Share
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই রাজধানী ঢাকায় নৃশংস গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং নির্বাচনী পরিবেশের গুরুতর অভাবকে উন্মোচিত করেছে। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদীর ওপর দিনদুপুরে মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারীরা গুলি চালায়। হাদী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে কোমায় রয়েছেন। এই হামলা তফসিল ঘোষণার (১১ ডিসেম্বর) পরপরই ঘটে, যা নির্বাচনী সহিংসতার একটি ভয়াবহ সংকেত।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ওসমান হাদীর ওপর হামলার পর পরিবারের উদ্বেগ চরমে পৌঁছে, এবং পরিবারের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি স্পষ্ট করে যে, এমনকি বিএনপির মতো বড় দলের প্রার্থীরাও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন।
এই ঘটনাগুলো ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। গত ১৫ মাসে দেশে মব জাস্টিস, নির্বিচার হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দির-মাজার ধ্বংস এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের দখল, ভোট কারচুপি এবং ছাত্রদলের বয়কটের ঘটনা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ। এখন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে হামলা এবং প্রার্থীদের সরে যাওয়া প্রমাণ করে যে, অথর্ব-ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ৪০% ভোট ব্যাঙ্ককে বাদ দিয়ে একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে এই তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, ইউনূসের অবৈধ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। জাতীয় পার্টিও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রার্থীদের জীবনহানির শঙ্কা থাকলে সাধারণ ভোটাররা কীভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন?
ইউনূস সরকারের এই বেপরোয়া নীতি দেশকে অস্থিতিশীলতার খাদে ঠেলে দিচ্ছে। বিদেশি উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত এই সরকারের উদ্দেশ্য যেন লাশ ফেলে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং পরে ঝোপ বুঝে পালিয়ে যাওয়া। জাতির জন্য এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। এই ষড়যন্ত্রকারীদের পাতানো নির্বাচন বর্জন করুন, দেশকে রক্ষা করুন এবং নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এখন আত্মহননের সমান। নির্বাচন বর্জনই একমাত্র পথ দেশবিরোধীদের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার।
আরো পড়ুন

