Share
রাজধানী ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিন পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদি। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গুরুতর অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর মতো প্রটোকল নিশ্চিত করার একটি সুগভীর পরিকল্পনার অংশ। একইসঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘সেইফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের বিষয়টিও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই এখন ওসমান হাদিকে এই বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ‘গিনিপিগ’ হিসেবে দেখছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান আহমেদ ওরফে কিলার হাসানের নাম। অভিযোগ রয়েছে যে, কিলার হাসান ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় কিলার হাসান তার অপরাধী নেটওয়ার্ক নতুন করে সক্রিয় করে তোলে। এক্ষেত্রে মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং মির্জা আব্বাসের চাচাতো ভাই মির্জা কালুর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে যে, ওসমান হাদি হত্যার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করা হয় আরামবাগে অবস্থিত মতিঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আকতারের দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসেই হত্যাকাণ্ডের সুক্ষ্ম কৌশল নির্ধারণ, ঘাতকদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং অপরাধ শেষে পালানোর পথ ঠিক করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং একাধিক স্তরে সমন্বিত। মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারেক রহমানের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করার দাবিটি জোরালো করা যায়।
এদিকে নিহতের ভাই শরীফ ওমর হাদি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে আঙুল তুলেছেন। গত মঙ্গলবার শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছে এবং এখন এই ইস্যু ব্যবহার করে নির্বাচন নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বিচার নিশ্চিত না হলে এই সরকারকে একদিন দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত থাকলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, ড. ইউনূস মূলত তারেক রহমানের কাছে একটি ‘সেইফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ চেয়েছেন। সেইসঙ্গে তারেককে ক্ষমতায় বসাতে সবধরনের আয়োজন তিনি করে রেখেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হরণ এবং জাতীয় নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই পরিস্থিতিতে যদি দ্রুততম সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চিরতরে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
আরো পড়ুন

