Friday, January 30, 2026

একজন মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু নিয়ে নাটক, বিএনপির রাজনীতির নির্মম অধ্যায়

Share

একজন মানুষের মৃত্যু শোকের বিষয়—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যদি রাজনৈতিক নাটক, বিভ্রান্তি এবং আবেগের বাণিজ্য শুরু হয়, তখন প্রশ্ন তোলাই হয়ে ওঠে নাগরিক দায়িত্ব। খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এবং তথাকথিত ‘নৈতিকতার মুখপাত্র’ ড. ইউনুস যে ভূমিকা পালন করছেন, তা নিছক শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং অনেকের কাছেই এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালেই বিস্ময় জাগে। একদিকে শোনা যাচ্ছিল ছেলের দেশে ফেরার প্রস্তুতি, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের গল্প, শেষ সাক্ষাতের আবেগঘন বয়ান। অন্যদিকে বাস্তবতা হলো—ছেলে আসার আগেই মা মারা গেছেন। যেদিন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার কথা ছিল, সেদিনই মৃত্যুর ঘোষণা আসে। এমনকি যুক্তরাজ্য একজন মৃত ব্যক্তির নামে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়—এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো কাহিনির বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতরভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই বিভ্রান্তিকর ও নাটকীয় বয়ান কার স্বার্থে? তারেক জিয়ার কি একবারও মনে হয়েছে, মায়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত করা কতটা অমানবিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া? আর ড. ইউনুস—যিনি সর্বদা নৈতিকতা, মানবতা ও গণতন্ত্রের কথা বলেন—এই শোকনাট্যের পাশে দাঁড়িয়ে আসলে কী বার্তা দিচ্ছেন? নৈতিকতার মুখোশ পরে কি তিনিও রাজনৈতিক ফায়দার অংশীদার হয়ে উঠছেন না?

বিএনপির রাজনীতিতে শোক কোনো নতুন অস্ত্র নয়। অতীতে বহুবার দেখা গেছে—মৃত্যু, অসুস্থতা ও আবেগকে ব্যবহার করে রাজপথ উত্তপ্ত করা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহানুভূতি আদায় করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকেও সেই পুরনো স্ক্রিপ্টে নতুন করে মঞ্চস্থ করা হচ্ছে—এমন ধারণা অমূলক নয়।

আরও উদ্বেগজনক ও হাস্যকর বিষয় হলো—তার জন্মতারিখ ও মৃত্যুতারিখ ঘিরে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা। একটি দলের সর্বোচ্চ নেতার জীবনসংক্রান্ত মৌলিক তথ্য যদি সেই দলই পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে তাদের বয়ান ও দাবির ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে? এই অস্পষ্টতাই প্রমাণ করে, বিএনপির রাজনীতি কতটা নাটকনির্ভর ও কৃত্রিম।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত যদি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে রাখা না যায়, তাহলে সেই রাজনীতিতে মানবিকতার জায়গা কোথায়? তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আজ শোককেও আন্দোলনের কাঁচামাল বানাতে দ্বিধা করছে না, আর ড. ইউনুস সেই নাটকে নীরব সমর্থন দিয়ে নিজের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

তবু সব আক্রমণ, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে একটি সত্য অটল—মানুষের মৃত্যুর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। এই মৌলিক সত্য অস্বীকার করেই বিএনপি বারবার রাজনীতিকে খাটো করেছে, আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো খালেদা জিয়ার মৃত্যুও।

ইতিহাস রাজনীতি ক্ষমা করতে পারে, কিন্তু শোক নিয়ে প্রতারণা—কখনোই নয়। এই শোকনাট্যের দায় একদিন ঠিকই তাদের কাঁধে ফিরে আসবে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত