Friday, January 30, 2026

প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-পুলিশ হত্যাকে মহিমান্বিত করছেন জুলাই জঙ্গিরা

Share

চাঁদাবাজি ও পুলিশ হত্যার কথা স্বীকার করে গ্রেপ্তার হওয়া দুই জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী ও মাহদী হাসানকে মব করে জেল থেকে বের করেছেন জুলাই যোদ্ধারা। এবার তারা এসব অপরাধের সাফাই গাইলেন। উল্টো আরও বিশৃঙ্খল করার হুমকি দিয়ে রাখলেন তারা।

সম্প্রতি এনামুল হাসান নামের এক গুপ্ত শিবির নেতাকে আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে গত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন।

এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন।

আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে? ”একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু জুলাই জঙ্গিদের মবের কারণে গত ৪ জানুয়ারি মুক্তি পান মাহদী।

অপরদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২৫ ডিসেম্বর নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিনই জুলাই জঙ্গিরা মব করে তাকে জেল থেকে বের করে আনেন।

এই দুই জঙ্গিকে বের করার পর তাদের দিয়ে আরও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বসুন্ধরার গণমাধ্যম পুড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

এই নজিরবিহীন অরাজকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিযুক্তের অপরাধের বিচার হবে আদালতে, কিন্তু উগ্র জনতার চাপে অপরাধীকে জেল থেকে বের করে আনা সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। মাহদী হাসানের মতো ব্যক্তিরা যখন প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যার গর্ব করে এবং প্রশাসনকে হুমকি দেয়, তখন রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যদি অপরাধীদের এভাবে ‘বিপ্লবী’ তকমা দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া হয়, তবে দেশে স্থায়ীভাবে ‘মব জাস্টিস’ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে কিছু থাকবে না।

গণমাধ্যম পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির বিষয়ে তারা বলছেন, এটি কেবল বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক ধরনের উগ্রবাদী আগ্রাসন। যদি অবিলম্বে এসব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের কবলে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত