Share
সত্যকে আড়াল করা আর মিথ্যাকে সত্য বানানোর চেষ্টা এই দুইয়ের মাঝখানেই আজ তারেক রহমানের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে। এটি আর মতপার্থক্যের বিষয় নয়, এটি একটি প্রামাণ্য প্রতারণা। রাষ্ট্রের নাগরিকত্বের মতো গুরুতর প্রশ্নে যদি একজন রাজনৈতিক নেতা দ্বিচারিতা করেন, তাহলে তিনি রাজনীতি করার নৈতিক অধিকারই হারান।
তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক কোনো “রাজনৈতিক অপপ্রচার” নয়। এটি উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের সরকারি নথি থেকে Companies House। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে Nationality,British এটি কোনো সংবাদপত্রের মতামত নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় রেকর্ড। এই তথ্য সেখানে কেউ জোর করে লিখে দেয় না এটি নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করতে হয়। অর্থাৎ, নিজেই নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েছেন এটাই বাস্তবতা।
এখন প্রশ্ন হলো- যুক্তরাজ্যের সরকারি নথি মিথ্যা, না কি তারেক রহমান আজ মিথ্যা বলছেন? দুটো একসাথে সত্য হতে পারে না। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই মিথ্যাকে ঢাকতে গিয়ে বিএনপি যে কৌশল নিচ্ছে, তা পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে “দ্বৈত নাগরিকত্ব” নিয়ে আলোচনা তোলা কোনো আইনি স্বচ্ছতার প্রচেষ্টা নয় এটি একটি আগাম বাঁচার অপচেষ্টা। যখন দেয়াল ঘনিয়ে আসে, তখনই বিভ্রান্তির ধোঁয়া ছড়ানো হয় এটাই পুরোনো রাজনৈতিক ফর্মুলা।
বাংলাদেশের সংবিধান পরিষ্কার; বিদেশি নাগরিক হলে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য। এখানে কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই, কোনো আবেগের জায়গা নেই। আইন অন্ধ নয়, আইন বোকাও নয়। আইন কাগজের উপর লেখা শব্দ মাত্র নয় এটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড।
তারেক রহমান কখনো বলেন তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন, কখনো বলেন তিনি শতভাগ বাংলাদেশি নাগরিক। এই দ্বৈত ভাষা আসলে কী? এটি আদর্শ নয়, এটি সুবিধাভিত্তিক পরিচয় বদলের রাজনীতি। যেখানে সুবিধা, সেখানেই পরিচয়।
আরো একবার পরিষ্কার করে বলা দরকার একজন নেতা যিনি নিজের নাগরিকত্ব লুকান, ঘুরান, বদলান তিনি কীভাবে জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন? যিনি নিজেকে নিয়ে সত্য বলতে পারেন না, তিনি রাষ্ট্র নিয়ে সত্য বলবেন এই আশা করাটাই ভুল।
তারেক রহমানের রাজনীতি আজ আর নেতৃত্বের রাজনীতি নয়; এটি মিথ্যা ব্যবস্থাপনার রাজনীতি। কাগজে-কলমে নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক বানিয়ে আবার জনতার সামনে নিজেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে তুলে ধরা নিছক ভণ্ডামি। এই ভণ্ডামি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই কলুষিত করে।
মিথ্যা যত বড়ই হোক, নথির কাছে তা টেকে না। আজ বা কাল, এই সত্যই সামনে আসবে। আর তখন ইতিহাস প্রশ্ন করবে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে যে মিথ্যা বলেছে, সে কি কখনো রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য ছিল?
আরো পড়ুন

