Friday, January 30, 2026

ভারত, রাশিয়া, চীনকে ঠেকাতে বাংলাদেশকে বলি দেওয়ার ত্রিমুখী আঁতাত

Share

বাংলাদেশ আজ যে অতল গহ্বরের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে, তা বুঝতে হলে বিশ্ব রাজনীতির দাবার ছকটা একটু খেয়াল করতে হবে। আমেরিকা যখন যেখানে তার স্বার্থ দেখেছে, সেখানেই গিয়ে হাজির হয়েছে। কখনো গণতন্ত্রের নামে, কখনো মানবাধিকারের নামে, কখনো বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে। কিন্তু শেষমেশ যা ঘটেছে তা হলো সেই দেশগুলোর সর্বনাশ। ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া কোনটাই আজ আর আগের মতো নেই। আর এখন সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে আমাদের বাংলাদেশ।

পাঁচই আগস্ট যা ঘটেছে, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটা ছিল পরিকল্পিত একটা ক্যু, যার পেছনে ছিল বিদেশি অর্থায়ন, ছিল জঙ্গি সংগঠনের লোকজন, আর ছিল একাংশের নীরব সমর্থন। একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে লোকটাকে ক্ষমতায় বসানো হলো, সেই ইউনূস কোনো জনপ্রিয় নেতা নন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান নন। তিনি একজন ব্যাংকার, যার গ্রামীণ ব্যাংকের সুদখোরি নিয়ে দেশে বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। কিন্তু তাকেই বসানো হয়েছে দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে, কারণ তিনি পশ্চিমা শক্তির পছন্দের মানুষ।

আমেরিকা চীনকে ঠেকাতে চায়। এটা কোনো গোপন কথা নয়। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, তাদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ, দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এসবই আমেরিকার চোখে কাঁটা হয়ে বিঁধছে। শেখ হাসিনা চীন এবং ভারত উভয়ের সাথেই সম্পর্ক রেখে চলতেন, পশ্চিমের সাথেও বাণিজ্য করতেন, কিন্তু নিজের দেশের স্বার্থটাকে সবসময় আগে রাখতেন। তিনি কোয়াডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন এটা চীনের বিরুদ্ধে একটা সামরিক জোট। এই ‘না’ বলার সাহসটাই তাকে আমেরিকার চোখে অবাঞ্ছিত করে তুলেছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম, মায়ানমারের আরাকান আর ভারতের কিছু অংশ মিলিয়ে একটা নতুন রাষ্ট্র বানানোর কথা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু ভূরাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এরকম অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টি, দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা এগুলো সবই পরিকল্পিত ছিল। চীনকে ঘিরে ফেলার জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে একটা করিডোর তৈরি করতে পারলে, এই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। আর সেজন্যই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভাঙা দরকার ছিল।

জুলাই মাসের দাঙ্গাটা কী ভয়ংকর সংগঠিত ছিল তা আমরা সবাই দেখেছি। কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন হঠাৎ করেই সহিংস হয়ে উঠল, পুলিশ বক্স পোড়ানো হলো, সরকারি ভবন ভাঙচুর করা হলো, মানুষ মারা গেল। কিন্তু যারা এই সহিংসতায় অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই ছিল পেশাদার। তাদের অস্ত্র ছিল, সমন্বয় ছিল, আর সবচেয়ে বড় কথা তাদের একটা লক্ষ্য ছিল যেটা কোটা সংস্কারের চেয়ে অনেক বড়। সেই লক্ষ্য ছিল সরকার পরিবর্তন।

পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশের জামায়াত শিবির এই পুরো ব্যাপারে সক্রিয় ছিল বলে অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাকিস্তান কখনোই ১৯৭১ সালের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা সবসময় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চেয়েছে। আর জামায়াত শিবির তো মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই পাকিস্তানের দালাল। তারা এখন আমেরিকান স্বার্থের সাথে নিজেদের লক্ষ্য মিলিয়ে ফেলেছে। তাদের স্বপ্ন একটা মৌলবাদী রাষ্ট্র, আর আমেরিকার দরকার একটা দুর্বল, বিভক্ত বাংলাদেশ যেখানে তারা তাদের সামরিক ঘাঁটি বসাতে পারবে।

১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন হতে চলেছে, সেটা একটা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের সংগঠন নেই, জনগণের সাথে যোগাযোগ নেই, অথচ নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ইউনূস সরকারের সব অবৈধ কাজকে বৈধতা দেওয়া হবে। মানুষ হত্যা, গুমখুন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সম্পত্তি লুট সবকিছুর একটা আইনি ছাপ্পর পড়বে। ঠিক যেমনটা ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমেনি করেছিলেন। আর আজ সেই খোমেনি আর খামেনির বিরুদ্ধে আমেরিকা যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।

ইরানের গল্পটা আসলে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটা আয়না। ১৯৫৩ সালে আমেরিকা ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে উৎখাত করে শাহকে ক্ষমতায় বসায়। শাহ ছিলেন আমেরিকার পুতুল। কিন্তু ১৯৭৯ সালে জনগণ বিদ্রোহ করলে আমেরিকা খোমেনিকে সমর্থন দেয়, ভেবেছিল তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু খোমেনি নিজেই একটা শক্তিশালী শাসক হয়ে দাঁড়ালেন, আর ইরান হয়ে গেল আমেরিকার শত্রু। এখন ৪৭ বছর পর আমেরিকা আবার ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, দেশটাকে ভাঙার চেষ্টা করছে। কুর্দি, বেলুচ, পার্সিদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে। ঠিক একই কায়দা প্রয়োগ হচ্ছে বাংলাদেশে। পাহাড়ি, বাঙালি, হিন্দু, মুসলিম এই বিভাজনগুলো তীব্র করে তোলা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের ইতিহাসও একই রকম। ১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আফগানিস্তান থেকে বের করে দিতে আমেরিকা তালেবান আর আল কায়েদা তৈরি করেছিল। ওসামা বিন লাদেনকে অস্ত্র দিয়েছিল, টাকা দিয়েছিল, প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে গেলে সেই ওসামাকেই তারা সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করল, আফগানিস্তানে আক্রমণ করল। বিশ বছর যুদ্ধ করে লাখো মানুষ মেরে শেষমেশ তালেবানকেই ক্ষমতায় রেখে চলে এল। আফগানিস্তান আজ ধ্বংসস্তূপ, সেখানে না আছে শান্তি, না আছে উন্নয়ন। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে গিয়ে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আক্রমণ করা হলো। সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া হলো, কিন্তু ইরাকে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র পাওয়া গেল না। তবে দেশটা ধ্বংস হয়ে গেল পুরোপুরি। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে সরানোর জন্য বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়া হলো। গাদ্দাফিকে রাস্তায় পিটিয়ে মারা হলো। লিবিয়া আজ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র, যেখানে দাস ব্যবসা চলে।

এখন বাংলাদেশে একই রকম পরিকল্পনা চলছে। ইউনূসকে দিয়ে দেশটাকে দুর্বল করা হচ্ছে, প্রশাসনকে ভাঙা হচ্ছে, অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গি গোষ্ঠীকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে একটা যুদ্ধক্ষেত্র বানানো। যেখানে আমেরিকা এসে ঘাঁটি গাড়বে, চীনকে ঠেকাবে, আর বাংলাদেশের মানুষ মরবে।

এই পুরো পরিকল্পনায় জামায়াত শিবির আর বিএনপির ভূমিকা অত্যন্ত জঘন্য। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ক্ষমতার লোভকে বড় করে দেখছে। তারা জানে যে গণতান্ত্রিক পথে তারা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তাই তারা বিদেশি শক্তির সাহায্য নিচ্ছে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন, জিন্দা অলী মতো লোকেরা মাঠে তা বাস্তবায়ন করছেন। আর ইউনূস তাদের সবাইকে একটা ছাতার নিচে এনে বৈধতা দিচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে অপহরণ করার পর আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য গ্রীনল্যান্ড। গ্রীনল্যান্ড হাতে পেলে ইউরোপের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে, রাশিয়াকে চাপে ফেলা যাবে। একইভাবে বাংলাদেশ হাতে পেলে চীনকে ঘিরে ফেলা যাবে, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করা যাবে। আর যে দেশটাকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, সেই দেশের মানুষ বুঝতেই পারছে না তারা কত বড় বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইরানে আজ যে যুদ্ধ চলছে, তা কয়েক দশক ধরে পরিকল্পিত। খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ছিল, সেটা সত্য। কিন্তু সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বাইরের শক্তি ইরানকে ভাঙতে চাইছে। কুর্দিরা আলাদা রাষ্ট্র চাইছে, বেলুচরা আলাদা রাষ্ট্র চাইছে। এই বিভাজনগুলো কে উসকে দিচ্ছে? কে অস্ত্র দিচ্ছে? কে অর্থ দিচ্ছে? সবাই জানে উত্তর কী। বাংলাদেশেও এখন একই খেলা শুরু হয়ে গেছে। পাহাড়ে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উঠছে, উত্তরে কিছু এলাকায় সেপারেটিস্ট মুভমেন্ট শুরু হচ্ছে। এগুলো কাকতালীয় নয়, পরিকল্পিত।

আরব বসন্তের নামে ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটানো হয়েছিল, তা আসলে ছিল একটা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে উত্তেজিত করা হয়েছিল, রাজপথে নামানো হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ সেখানে গণতন্ত্র আসেনি, এসেছে জঙ্গিবাদ, গৃহযুদ্ধ আর ধ্বংস। সিরিয়া, মিশর, তিউনিশিয়া, ইয়েমেন সব জায়গাতেই একই ফল। বাংলাদেশেও এখন একই কায়দা প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তরুণদের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে, রাস্তায় নামানো হচ্ছে। আর পেছন থেকে জঙ্গিরা সহিংসতা ছড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের সাথে জামায়াতের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা চালিয়েছিল। তাদের সেই অপরাধের বিচার হয়েছিল, কিছু নেতার ফাঁসিও হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাদের পেছনে আছে পাকিস্তান আর আমেরিকা। আইএসআই এর অপারেশন বিডি প্রজেক্টে পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে বলে খবর। এই বিশাল অংকের টাকা দিয়ে মিডিয়া কেনা হয়েছে, বুদ্ধিজীবী কেনা হয়েছে, রাজনীতিবিদ কেনা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, জঙ্গি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন একটা টাইম বোমা। যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। ইউনূস সরকার কোনো জনপ্রিয় সমর্থন ছাড়াই চলছে, তাই তারা শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দমন চালাচ্ছে, বিরোধীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু এই দমন বেশিদিন চলবে না। মানুষ যখন আর সহ্য করতে পারবে না, তখন বিস্ফোরণ ঘটবে। আর সেই বিস্ফোরণটাই আমেরিকা চাইছে। কারণ তখন তারা শান্তিরক্ষা বা মানবাধিকার রক্ষার নামে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এই ষড়যন্ত্রে জড়িত। পাঁচই আগস্টের ঘটনায় তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নিরপেক্ষতার নামে আসলে ক্যু করতে সাহায্য করেছে। আর এখন ইউনূস সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তারাই প্রধান ভরসা। কিন্তু সেনাবাহিনী চিরকাল রাজনীতি করতে পারে না। একসময় তাদের ব্যারাকে ফিরতে হবে। আর তখন যদি দেশে একটা শক্তিশালী বেসামরিক সরকার না থাকে, তাহলে সেই শূন্যতা পূরণ করবে জঙ্গিরা।

ইউনূস নিজে হয়তো বুঝতে পারছেন না যে তিনি কী ভয়ানক খেলায় জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি হয়তো ভাবছেন তিনি নোবেল বিজয়ী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে সমর্থন দেবে। কিন্তু তিনি ভুলে যাচ্ছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেউ কারো বন্ধু নয়, সবাই স্বার্থের হিসাব করে চলে। আজ তাকে যারা সমর্থন দিচ্ছে, কাল যদি তাদের স্বার্থ বদলায়, তারা তাকে ফেলে দেবে। ঠিক যেমন তারা সাদ্দাম, গাদ্দাফি, মুবারক সবাইকে ফেলে দিয়েছিল।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি হয়েই যায়, তাহলে বাংলাদেশ আরও গভীর সংকটে পড়বে। কারণ এই নির্বাচন কোনো সমস্যার সমাধান করবে না, বরং নতুন সমস্যা তৈরি করবে। একটা অবৈধ সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পাবে, আর তারপর তারা আরও নির্মমভাবে দমন চালাবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তাদের গ্রেফতার করা হবে, নির্যাতন করা হবে। আর বিদেশি শক্তিরা এই পুরো নাটক দেখে যাবে, কারণ এটাই তাদের পরিকল্পনা।

আমেরিকার এই খেলাটা নতুন নয়। ১৯৪৩ সালে সৌদি আরবের সাথে যে ল্যান্ড লিজ চুক্তি হয়েছিল, সেটা ছিল তেলের বিনিময়ে সামরিক নিরাপত্তা। সৌদি আরব তেল দেবে, আমেরিকা তাদের রক্ষা করবে। এই চুক্তির কারণে সৌদি আরব আজও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন একই ধরনের ফাঁদ পাতা হচ্ছে। ভৌগলিক অবস্থান, সমুদ্র বন্দর, বিশাল জনসংখ্যা এসবকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। চীনকে ঠেকানোর জন্য এখানে সামরিক ঘাঁটি বসানো হবে, আর বাংলাদেশ হয়ে যাবে একটা যুদ্ধক্ষেত্র।

এই সবকিছুর শিকার হবে সাধারণ মানুষ। যে মানুষ জীবনভর কষ্ট করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, তারাই দেখবে তাদের সন্তানরা যুদ্ধে মরছে। গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী এরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থনীতি ভেঙে পড়বে, মুদ্রাস্ফীতি আকাশ ছোঁবে, খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, দেশটা একসময় ভাগ হয়ে যেতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চল আলাদা হয়ে যাবে, উত্তরাঞ্চল আলাদা হয়ে যাবে। বাংলাদেশ নামের আর কিছু থাকবে না।

আমেরিকা সবসময় জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করে নিজের কাজ হাসিল করে। তালেবান, আল কায়েদা, আইএসআইএস সবাইকে তারা কোনো না কোনো সময় ব্যবহার করেছে। এখন বাংলাদেশেও তারা নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করছে। জামায়াত শিবিরের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। আর যখন তাদের কাজ শেষ হবে, তখন এই জঙ্গিদেরকেই সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। আর সেই অভিযানের অজুহাতে বাংলাদেশে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

এই পুরো পরিস্থিতি আসলে দুঃখজনক। একটা দেশ যেটা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই দেশকে আবার পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এবার অবশ্য বন্দুক হাতে কেউ আসছে না, আসছে ডলার হাতে। কেনা হচ্ছে মানুষের বিবেক, মিডিয়া, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী। আর এই কেনাবেচার বাজারে দেশপ্রেম বলে কিছু নেই, আছে শুধু লোভ আর স্বার্থ।

বাংলাদেশ এখন সত্যিই বিপদের মুখে। যারা ভাবছেন যে এটা ক্ষণস্থায়ী একটা সমস্যা, তাদের বুঝতে হবে এটা অনেক গভীর ষড়যন্ত্র। যারা ভাবছেন ইউনূস ভালো মানুষ, তিনি দেশের মঙ্গল চান, তাদের চোখ খুলে দেখতে হবে কী হচ্ছে চারপাশে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত