Friday, March 13, 2026

গরিব মেরে রাজনীতি, এটাই বিএনপির পুরনো অভ্যাস

Share

এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬৫ থেকে লাফিয়ে ২২০ টাকা। ডিমের হালি ৩২ থেকে ৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী বলছেন ঈদের আগে আরও বাড়বে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯.১৩ শতাংশ, দশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সৌরভ মিয়া নামের দিনমজুর সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন। কিন্তু সরকার যখন নিজেই সমস্যার অংশ, তখন হস্তক্ষেপটা আসবে কোথা থেকে?

দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের দায়ে কুখ্যাত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বরা বছরের পর বছর বিদেশে পালিয়ে থেকেছেন, বিদেশে আয়েশি জীবন কাটিয়ে। এখন হঠাৎ দেশপ্রেম জেগে উঠেছে। ফিরে এসে বিশাল দেশপ্রেমিকের মতো আচরণ করছেন, যদিও তাদের বৈধতার প্রশ্নটা এখনো রাজনৈতিক বাতাসে ঝুলে আছে। যে দলের মানুষগুলো বছরের পর বছর বাংলাদেশের গরিব মানুষের করের টাকা বিদেশে পাচার করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তারা এখন কীভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণ করবে? কোন নৈতিক অবস্থান থেকে?

বিএনপির জন্মটাই প্রশ্নবিদ্ধ। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে দল বানিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের কথা বলা একটা দল, যার ভিত্তিই গণতান্ত্রিক না। ২০০১ থেকে ২০০৬, এই পাঁচ বছরের কথা মনে আছে মানুষের? হাওয়া ভবন থেকে চাঁদাবাজি চলত সারাদেশে, ব্যবসায়ীরা টাকা না দিলে ব্যবসা করতে পারতেন না, বিরোধীদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হতো, সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা হতো। সেই একই কায়দায় ২০২৬ সালে ফিরে এসেছে সব কিছু। মানুষের পকেট কাটার ধরন একটু বদলেছে, কিন্তু কারা কাটছে সেটা বদলায়নি।

এখন বাজারে গেলে মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা হিসাব করে মুরগি কিনছেন। নিম্নআয়ের পরিবারে মুরগি এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে। ডিমও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই মানুষগুলো ভোট দিয়েছিল, না দেয়নি, সেটা আলাদা প্রশ্ন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি যে ভোট হলো, সেটা কি এই মানুষগুলোর কথা মাথায় রেখে হয়েছিল? বড় বড় দলগুলো সরিয়ে, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া, একটা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এখন গরিবের থালা থেকে মুরগির টুকরো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চুরির একটা ঐতিহ্য থাকে। বিএনপির সেই ঐতিহ্য বহু পুরনো। হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজি থেকে লন্ডনে অর্থ পাচার, পথটা সোজা এসে ঠেকেছে ২০২৬ সালের বাজারে। গরিব মানুষ আজ মুরগি কিনতে পারছেন না, সেটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এটা একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফল, যে ব্যবস্থায় ক্ষমতাবানরা লুট করে যায় আর সৌরভ মিয়ারা সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত