Share
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে বিদ্যুৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর থেকে হঠাৎ এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৪৫০ মেগাওয়াট নর্থ এবং ৪০০ মেগাওয়াট ইস্ট ইউনিটের উৎপাদন থমকে গেছে। একদিকে উৎপাদন বন্ধ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে ২০০১-২০০৬ সালের সেই ভয়াবহ ‘অন্ধকার যুগের’ স্মৃতি।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, এই মন্তব্য আসলে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়েরই আগাম সংকেত।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ২০০৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। সে সময় গ্রামগঞ্জে ১৬-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের কণ্ঠে ‘লোডশেডিং সহ্য করার’ পরামর্শ শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দেশ কি আবারও সেই কানসাট ট্র্যাজেডির দিকে ধাবিত হচ্ছে?
তৎকালীন সময়ে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘খাম্বা’ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ‘ওয়ান গ্রুপ’-এর মাধ্যমে কোনো টেন্ডার ছাড়াই শত শত কোটি টাকার খাম্বা সরবরাহের কাজ করা হয়েছিল। মাইলের পর মাইল শুধু সিমেন্টের খুঁটি দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তাতে বিদ্যুতের তার পৌঁছায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সময়কার ‘হাওয়া ভবন’ সিন্ডিকেট যেভাবে বিদ্যুৎ খাতকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছিল, বর্তমানে আশুগঞ্জ গ্রিড বিপর্যয় এবং মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সেই পুরনো অব্যবস্থাপনাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনটি উৎপাদনে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ‘খাম্বা সংস্কৃতি’ এবং খামখেয়ালি ব্যবস্থাপনাই ছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির প্রধান কারণ। আজ যখন আবার বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হচ্ছে এবং মন্ত্রী লোডশেডিংকে ঋণের চেয়ে ভালো বলছেন, তখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—দেশ কি আবারও সেই তারেক রহমানের অন্ধকার যুগে এবং ‘শূন্য খাম্বার’ অর্থনীতিতে ফিরে যাচ্ছে?
বিদ্যুৎ খাতের এই নাজুক দশা এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এমন নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আরো পড়ুন

