আন্দোলনের নামে দেশ ধ্বংস”- ভুলের স্বীকারোক্তি, বাস্তবতার মুখোমুখি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর আত্মকথন

Share

নিয়াভ সারাই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএলবি) ব্যাচেলর অফ ‘ল বিভাগের শিক্ষার্থী। ২৪ কথিত আন্দোলনে তিনিও ইউনুস, জামায়ত, বিএনপি সহ দেশ ধ্বংসের কারিগরদের মেটিকুলাস ডিজাইনের ট্র্যাপ পড়েছিলেন । কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তিনি আজ নিজেই বুঝতে পারছেন স্রেফ তাদের ইমোশন কে ব্যবহার করে এই দেশধ্বংসকারিরাই এই সাজানো গোছানো সুন্দর দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চাই , দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে একটা পরাধীন রাষ্ট্র করতে চাই –

আসুন দেখি নিয়াভ তার ফেসবুক পোস্টে কি বলছেন – ‘’আমি জুলাইয়ে প্রোটেস্টে করায়,বর্তমানে আমি এই স্টেটমেন্ট দিচ্ছি যে, জুলাইয়ে শুরু থেকেই যা হয়েছিল, সবকিছু মেটিকুলাস ডিজাইন। যা ড:ইউনুস, মাহফুজ সহ অনেকে সমন্বয়ক নিজের স্টেটমেন্টে প্রকাশ করেছে। এতগুলো স্টুডেন্ট, জনগণ, পুলিশ সব ধরনের মানুষ মারা গিয়েছে শুধুমাত্র এই মেটিকুলাস ডিজাইন এর জন্যই। তাদের প্রত্যেক জনের বিচার হোক,যে সকল গুপ্তরা, ৭.৬২ এমএম দিয়ে গুলি চালিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণে হাত দিয়েছে। পরবর্তীতে সেইগুলো আমরা জানতে ও দেখেতেও পেরেছি, যারা প্রধান আন্দোলন’কারী ছিলো তারা প্রত্যেক জন্যই কোনো না কোনো ভাবে রাজনীতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল।যা ৫’ই আগস্টের পর সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

——আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে মাফ করবেন। আমি নিজে একজন নারী হয়ে বলছি, আমি শেখ হাসিনার সময়েই নিজেকে বেশি নিরাপত্তায় অনুভব করতে পারতাম। সেইটা তখন থেকে বুঝতে পেরেছি যখন থেকে শেখ হাসিনার অভাব এই দেশে প্রয়োজনে হয়েছে।

এই জাতির জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা নিজেই। আমি যেহেতু জুলাইয়ে আন্দোলনে যোগদান দিয়ে রাষ্ট্রের হৃদয়ে আঘাত এনেছি, তাই যখনই দেশের মা বোনদের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্যে, যখনই সময় আসবে, আমি তখনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবোই।”

তিনি আরও লেখেন, আমি যদি জানতাম, এই প্রোটেস্টে অংশগ্রহণ করলে পরবর্তীতে আমার দেশের অস্তিত্ব নিয়ে কথা আসবে, ৭১ নিয়ে বিতর্ক কথা আসবে। যখন জুলাইয়ে প্রোটেস্টে হচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে স্রোগ্রানও হয়েছিল “বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই।” আর, ৫’ই আগস্টের পর এই দৃশ্য পুরোই বিপরীত। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ আমাদের দেশের সম্মান। আমাদের দেশের অস্তিত্ব। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালেই যখন লিখা থাকে “নিজামীর বাংলায় ৭১ এর ঠাই নাই” যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লিখা থাকে ” নিজামীর বাংলায় মুক্তিযোদ্ধার ঠাই নাই। সেই জুলাই আমার দরকার নাই। যে ৭১ এর জন্যই আমার দেশের নাম বাংলাদেশ। সেই ৭১ নিয়েই চেতনা করব না তো কি ২৪ নিয়ে করবো?

নিয়াভের এই পোস্টেই বোঝা যাই, কিভাবে জুলাই জঙ্গিরা সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ব্রেন ওয়াশ করিয়েছিলো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ।

তবে আশার বাণী হলো- নিয়াভের মতো এমন লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আজ তাদের ভুল বুঝতে পারছে । তারা উপলব্ধি করতে পারছে এই আন্দোলনে তাদের কে ব্যবহার করে সেই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি আবারো মাথা চাড়া দিয়েছে। তবে সেই দিন আর বেশি দূরে নয় আমরা সকলে মিলেই আবারো বাংলাদেশ কে সামনের দিকে নিয়ে যাবো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে ।

ধন্যবাদ নিয়াভ – ভুল করা অপরাধ নয়, কিন্তু ভুল হলে সেটাকে স্বীকার করার সাহসটাই হয়তো সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমাদের মতো তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে ।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত