সেনাবাহিনীতে এখন খুলাফায়ে রাশেদীন, দেশের বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন ব্রাত্য

Share

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্রথম ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোর নাম ছিল জাহাঙ্গীর, রউফ, হামিদুর। এই নামগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠত একাত্তরের রক্তঝরা দিন, আত্মদানের ইতিহাস। এই নামগুলো ছিল আমাদের অভিভাবক, আমাদের অহংকার।

কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে দাঁড়িয়ে দেখছি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। সেই বিএমএতেই ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের নাম এখন উমর কোম্পানি, আবু বকর কোম্পানি, আলী কোম্পানি, উসমান কোম্পানি। কোনো বীরশ্রেষ্ঠের নাম নেই। মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতি নেই। ষড়যন্ত্রী জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের উপস্থিতিতে এই ব্যাটালিয়নের যাত্রা শুরু হলো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেন দেশটা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে নির্লজ্জভাবে।

মনে পড়ে যায় ২০০১-০৬ সালের সেই বিভীষিকাময় সময়ের কথা। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলে দিয়েছিল। আজ আবার সেই একই চিত্র। ২০২৬ সালে ক্ষমতাসীন বিএনপি আর জামায়াত বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে নিলামে তুলেছে। মসজিদ আর মক্তবের সাথে সেনাবাহিনীর পার্থক্যটুকু তারা মুছে ফেলতে চায়। যে সংবিধান আমাদের দিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা, সেই সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকেও ঢাল বানানো হচ্ছে মৌলবাদী রাজনীতির।

প্রশ্ন জাগে, এটা কি সেনাবাহিনী, নাকি মাদ্রাসা বাহিনী? যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মুছে দিয়ে খলিফাদের নাম বসছে, সেখানে বোঝাই যাচ্ছে একাত্তরের চেতনা থেকে কতটা দূরে সরে গেছে এই রাষ্ট্রকাঠামো। বীরশ্রেষ্ঠদের ঋণ কি এতটুকুই ছিল? তাঁদের আত্মদান ভুলে গিয়ে এখন আমরা আরবের মরুভূমির ঐতিহ্য ধারণ করছি। এটা শুধু নামকরণ নয়, এটা দর্শনের পরিবর্তন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো বিষয় বললেও কম বলা হবে।

বিএনপি-জামাতের এই অপশাসন আমাদের প্রিয় জন্মভূমির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এই অপশক্তির কাছে ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু একটা শব্দমাত্র, যাকে তারা যখন তখন ফ্লাশ আউট করে দিতে পারে ক্ষমতার জোরে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত