Share
বিগত বছরগুলোতে সরকারি প্রাথমিক স্কুল হারিয়েছে ২০ লাখ ৭১ হাজার শিক্ষার্থী। এসএসসিতে কমেছে প্রায় দুই লাখ। এইচএসসিতে আগের বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ৩৯ হাজার। উল্টো দিকে বেফাক বোর্ডেই কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী বেড়েছে দেড় লাখের বেশি, মাদ্রাসা বেড়েছে ১৪ হাজার ৭৬৬টি। এটা কোনো সাময়িক ওঠানামা না, একটা স্পষ্ট প্রবণতা – সাধারণ শিক্ষা খালি হচ্ছে, মাদ্রাসা ভরছে।
এর পেছনে যতটা না ধর্মীয় টান, তার চেয়ে বেশি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। সরকারি স্কুল “ফ্রি” বলা হয় কাগজে, বাস্তবে কোচিং, প্রাইভেট, বই-খাতার খরচ গরিব পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্ন। উল্টোদিকে মাদ্রাসায় থাকা-খাওয়া-পড়াশোনা তিনটাই বিনামূল্যে। শ্রমজীবী মা-বাবার কাছে এটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না, বিকল্প আবাসিক ডে কেয়ার। রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ, সেই ফাঁক পূরণ করছে মাদ্রাসা বোর্ডগুলো।
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ হলো, ছয়টা কওমি বোর্ডের মধ্যে পাঁচটাই তাদের প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রকাশ করে না। “বিদেশি সংস্থা আর দেশের মানুষের অ্যালার্জি আছে” – এই যুক্তিতে তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রীয় শিক্ষা কাঠামোর একটা বিশাল অংশ কার্যত জবাবদিহিতার বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন তথাকথিত বিএনপি-জামাত সরকার “সব মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণে আনার” কথা বলছে ঠিকই, কিন্তু তাদের ইতিহাসই বলে যে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের মধ্যে দূরত্ব অনেক লম্বা হয়।
আরো পড়ুন

