Share
তুচ্ছ ঘটনায় বার বার পাহাড় উত্তপ্ত হচ্ছে। এবারও খাগড়াছড়িতে বাঙালি-পাহাড়ি জাতিতে সংঘাত হয়েছে। প্রাণ ঝরেছে তিনজনের। এর জন্য কোনো প্রমাণ ছাড়া ভারতকে দায়ী করছে সরকার।
সূত্র বলছে, জামায়াতের চালেই অস্থিতিশীল হয়েছিল পাহাড়। এরইমধ্যে পাহাড় শান্ত করতে আড়াইশ ক্যাম্পের কথা উঠেছে। এ প্রস্তাব জামায়াতের ভেতর থেকেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলে ছিলেন সর্ব মিত্র চাকমা নামের এক নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থী।
সূত্র জানায়, শিবিরের ব্যাপক কার্যক্রম রয়েছে পাহাড়ে। গত কয়েক বছরে পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে অনেকেই জঙ্গিসংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার’ সদস্য।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানান, তার ছেলে রাফাত সাদিক জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গেছেন। তখন নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সঙ্গে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা খুঁজতে বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকে রিমান্ডে নেয় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ছেলের জড়ানো, ছেলেসহ জড়িতদের পালাতে ব্যয়ভার বহনের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে সিটিটিসি। এ থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াতের তত্ত্বাবধানে সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ হতো।
এবার পাহাড়কে অশান্ত করে জামায়াত চাইছে সেখানে সেনা ক্যাম্প গড়তে যাতে সমতলকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা যায়। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকলেও দেশে অপরাধের সংখ্যা বেড়ে বহুগুণ। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৯ মাসে ৬৬৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৩৯৭ জন, যা মোট ঘটনার অর্ধেকেরও বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সম্প্রতি বেড়ে গেছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক অপরাধমূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ৯ মাসে দেশে ৬৬৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৩৯৭ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ১৫ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে এক হাজার ৮৭৯টি মামলা হয়েছে। প্রতিদিন মামলা ৬০টির বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, সেনাবাহিনী যেখানে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না ঠিকভাবে সেখানে তাদের আরও পাহাড়ে পাঠালে রাষ্ট্র অচল হয়ে পড়বে। এতে জামায়াত তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বাড়িয়ে দিয়ে জনগণের মধ্যে ত্রাস তৈরি করতে পারবে। সেইসঙ্গে এ দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তারও ব্যাপক ঘটবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহাড়ি জনপদে শান্তি বজায় রাখতে হলেমানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করার আগে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিকভাবে সঠিক পথ।
আরো পড়ুন

