Share
বাংলাদেশ আজ এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার মুখোমুখি। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে চাঁদাবাজির মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাবেক গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নৃশংস সমস্যার মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম বিপর্যস্ত। বড় ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাতের দোকানদার, রিকশাচালক থেকে কৃষক, এমনকি ভিক্ষুক—কেউই চাঁদাবাজির জালে নিরাপদ নয়।
চাঁদাবাজির পেছনে যে রাজনৈতিক ছায়া কাজ করছে, তা অস্বীকার করা যায় না। বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির নেতা-কর্মীরা সক্রিয়ভাবে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তারা ইউনুস সরকারের ছায়াতলে বসে দেশের প্রতিটি কোণে ভয়, আতঙ্ক এবং অর্থনৈতিক নিপীড়ন ছড়াচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, প্রশাসন নিশ্চুপ দর্শক। হত্যা, খুন, ধর্ষণ—এই নৈরাজ্যের সঙ্গে প্রশাসন কার্যত নিঃশব্দ। যদি এই গোষ্ঠী ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তাহলে মেয়েরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ থাকবে না। প্রতিবাদ করলে প্রকাশ্যে খুন, প্রশাসন তখনও নির্বিকার।
এরা ইসলামের মুখোশ পরে, কিন্তু প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা থেকে তারা শতভাগ বিচ্যুত। ইসলাম শান্তি, ন্যায় এবং সহনশীলতার ধর্ম, যেখানে মানুষের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে—“তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আর আমার ধর্ম আমার।” অথচ জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা ধর্মকে মানুষের শোষণ এবং রাজনৈতিক দাপট চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হচ্ছে, সমাজে ঘৃণা ও ভয় ছড়িয়ে পড়ছে।
চাঁদাবাজি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না এটি দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যারা ক্ষমতার প্রতীক্ষায় আছে, তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন করছে। ছোট ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী এবং কৃষকরা তাদের চাঁদা না দিলে জীবন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এমনকি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও চাঁদাবাজির চাপের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
ড. সালেহউদ্দিনের মন্তব্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ একা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এবং দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। কারণ চাঁদাবাজির অপরাধ সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা অনুপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশের মানুষ আজ এক গভীর সংকটে দাঁড়িয়ে। চাঁদাবাজি কেবল অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দেশের গণতন্ত্রও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রশাসন যখন নিশ্চুপ, অপরাধীরা লুটপাট, হত্যাযজ্ঞ ও ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে, তখন দেশের ভীতু জনগণ নিঃশব্দ। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটের মাধ্যমে শক্তিশালী নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা একমাত্র সমাধান।
দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই সময় শক্তিশালী রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার, প্রশাসনকে সক্রিয় করার এবং চাঁদাবাজদের দমন করার। নাহলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম ভয়ে, ঘৃণায় এবং অরাজকতায় ভুগবে।
আরো পড়ুন

