ইলিশ রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ, জেলেদের রক্ষায় নীরবতা, ইউনুস সরকারের নৈতিক পতন

Share

বাংলাদেশ আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করছে, যেখানে ইলিশ মাছের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নৌবাহিনীর ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে ইলিশ রক্ষায়, অথচ মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায় সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নদীতে মাছের জন্য টহল, সাগরে জেলেদের জন্য শূন্য উদ্যোগ—এ কি প্রশাসনিক বিবেকহীনতার নতুন রূপ?

প্রতি সপ্তাহে আরাকান আর্মি বঙ্গোপসাগর থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন পর্যন্ত জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে আপনজনকে। অথচ সরকার ব্যস্ত “ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান” নিয়ে প্রচারণায়। যেখানে মানুষের জীবনই নিরাপদ নয়, সেখানে মাছের জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের যে বিকৃতি তা স্পষ্ট।

দেশের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মব সন্ত্রাস, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, লাশ ফেলা—দৈনন্দিন বাস্তবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন অন্ধ, বধির ও নির্বাক। প্রশাসনের ব্যর্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ এখন থানায় না গিয়ে নিজস্ব বিচার করছে এটি সভ্য সমাজের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত।

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত “মানবিক” সরকারের আমলেই দেশে মানবিকতার এই সংকট গড়ে উঠেছে। সরকার শুধু চেহারা রক্ষায় ব্যস্ত, যেখানে প্রাণ রক্ষার চেয়ে ইলিশ রক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষ মরছে, জেলেরা হারাচ্ছে জীবিকা, মা সন্তান হারাচ্ছে কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীলদের মুখে নেই কোনো সহানুভূতির শব্দ। এই নৈতিক বিপর্যয় রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা ও অগ্রাধিকারের চরম পতনের পরিচয় বহন করছে।

একটি প্রশ্ন এখন সবার মনে এই রাষ্ট্র কাদের জন্য? ইলিশের জন্য, নাকি মানুষের জন্য? যখন মানুষের জীবন, সম্মান ও নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়, অথচ মাছের জন্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়, তখন স্পষ্ট হয় বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা মানবিকতার নয়, বরং নিছক প্রদর্শনমূলক শাসনের ধাঁচে পরিচালিত হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত