Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে গুম সংক্রান্ত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ১৫ জন্য কর্মরত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়া ইউনূসের গুজব বাহিনীর সর্দার পিনাকী ভট্টাচার্য।
তিনি তার ফেসবুক পেজে একের পর সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছে। আর এ বক্তব্য শুনে দুর্বল সেনাবাহিনীও জবাবদিহি করল সংবাদ সম্মেলনে করে।
শনিবার সেনা সদরের ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোঃ হাকিমুজ্জামান জানিয়েছিলেন যে, দুটি মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে নয় জন অবসরপ্রাপ্ত, একজন এলপিআরে গেছেন এবং বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন।
এই সংবাদ সম্মেলনের আগে এক স্ট্যাটাসে পিনাকী লেখেন, প্রবল ব্যাশিং খেয়ে আইএসপিআর এবার প্রেস কনফারেন্স ডেকেছে। আগেই বলে দিচ্ছি কোন মিথ্যা গল্প ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের আস্থা অর্জন করা যাবে না।
সূত্র বলছে, নির্বাচন বানচাল ও মানবিক করিডর বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙতেই এই মিশনে নেমেছে ইউনূস-পিনাকী গং। এমন ইঙ্গিত সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছে সেনাবাহিনীও।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘পুরো জাতি এখন নির্বাচনমুখী। গত ১৩-১৪ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সেনাসদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ট্রেনিং, পোস্টিং, প্রমোশনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনাটি সেনাসদস্যদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী মোর্যালি ইফেক্টেড (নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত).. মোর্যালি আপসেট (নৈতিকভাবে বিপর্যস্ত)।
এরইমধ্যে দেশে সেনা অভ্যুত্থান নিয়েও এরইমধ্যে গুজব ছড়ানো শুরু করেছে পিনাকী। যদিও দেশের এ অবস্থায় সেনাশাসন খুবই জরুরি। তবে পিনাকীর কথায় সেনাবাহিনী কি আবারও চুপসে যাবে নাকি সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাখাইন বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তের একেবারে লাগোয়া। যদি সেখানে করিডর খোলা হয়, তখন— রোহিঙ্গাদের নতুন ঢল বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা বাড়বেসীমান্তে অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার আরও বেড়ে যেতে পারে। নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়বে। চীন, ভারত, ও পশ্চিমা দেশগুলোর ভিন্ন স্বার্থ আছে রাখাইন অঞ্চলে (বিশেষত বন্দর ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে)। মানবিক করিডরের মাধ্যমে যদি কোনো পক্ষ সেখানে প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে এলাকাটি নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হবে।
আরো পড়ুন

