রাষ্ট্রই যখন ডাকাতি হয়ে গেছে তখন ডিবি পুলিশ সেজে ডাকাতিই বা বাদ যাবে কেনো!

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরিফুল ইসলাম নামের যে তরুণটি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটি উদযাপন করছিলেন, তার বাড়িতে মধ্যরাতে যখন একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়ল, তখন তিনি কী করতে পারতেন? কোথায় যেতে পারতেন? যে পুলিশ বাহিনীর কাছে তার নিরাপত্তার জন্য ছুটে যাওয়ার কথা, সেই পুলিশের পরিচয়েই যদি অপরাধীরা আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়?

এই ঘটনার ভয়াবহতা শুধু লুটপাটের পরিমাণে নয়। ১২ থেকে ১৩ জনের একটি সুসংগঠিত দল, যাদের কাছে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, যারা জানত কীভাবে একটি পরিবারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়, কীভাবে নারী ও পুরুষদের আলাদা কক্ষে আটকে রাখতে হয়, এবং কীভাবে দ্রুত পালিয়ে যেতে হয়। এটা কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে করা অপরাধ নয়। এটা পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং পেশাদার অপরাধ। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের সংগঠিত অপরাধী চক্র কীভাবে এত সাহসী হয়ে উঠল যে তারা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না?

বাংলাদেশে গত এক বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিদেশী রাষ্ট্রের টাকায়, ইসলামিক উগ্রবাদী সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর সমর্থনে দেশব্যাপী জুলাই দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দিয়ে সুদী মহাজন ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। যখন একটি বিয়েবাড়িতে, যেখানে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই একসাথে আছেন, সেখানে এই ধরনের ডাকাতি ঘটতে পারে, তখন বোঝা যায় অপরাধীদের ও তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের মনে কোনো ভয়ের লেশমাত্র নেই। কারন তারা তো জানেই যে পুরা দেশের ক্ষমতাই যখন পকেটে, কে তাদের কি আর করবে!

কর্ণফুলীর এই ঘটনাটির মতো সারাদেশে বিভিন্ন সময় এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে যেখানে অপরাধীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করছে। এটা শুধু জনগণের জন্য নয়, প্রকৃত পুলিশ বাহিনীর জন্যও অত্যন্ত অপমানজনক এবং উদ্বেগজনক। এতে জনগণের মনে পুলিশ বাহিনীর প্রতি যে আস্থা থাকার কথা, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যখন একজন প্রকৃত পুলিশ সদস্য কোনো তদন্ত বা অভিযানে যাবেন, তখন মানুষ সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করবে। এটা পুরো আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি বন্দুক এবং শটগানের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা আসলেই সশস্ত্র ছিল এবং প্রয়োজনে তারা সেই অস্ত্র ব্যবহার করতেও পিছপা হতো না। আরিফুল ইসলামের পরিবার এবং অতিথিরা যে প্রাণে বেঁচে গেছেন, এটাই তাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু একটি বিয়ের রাতে, যখন একটি নতুন জীবন শুরু হওয়ার কথা, সেখানে এই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া কতটা মানসিকভাবে আঘাতের, তা বোঝা কঠিন।

রাষ্ট্রের কাছে মানুষের প্রথম প্রত্যাশাই হলো নিরাপত্তা। যদি সেটা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে অন্য সব অর্জন মূল্যহীন হয়ে পড়ে। একজন মানুষ যদি তার নিজের বাড়িতে নিরাপদ বোধ না করেন, যদি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি হতে হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত