কারাগারে নীরবে চলছে হত্যাযজ্ঞ, বন্দিদের হত্যার পর দেওয়া হচ্ছে অসুস্থতার দোহাই

Share

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আবুল কালাম (৪৫) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। জেল কতৃপক্ষের দাবি অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যু; কিন্তু নিহতের পরিবার বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, “রাতে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে কারা হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”

অন্যদিকে নিহত আবুল কালামের স্ত্রী গোলজাহান বেগম বলেছেন, “আমার স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বাদী পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে কারাগারের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই দেখা হয়েছিল, তখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী একই ভাবে বুকে ব্যাথা অনুভব করে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের বন্দি জয়নাল আবেদিনেরও মৃত্যু হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে জয়নাল আবেদীন বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (হার্ট ফাউন্ডেশন) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শুক্রবার রাতে পুলিশি পাহারায় তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রওনা হলে গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর পর তিনি মারা যান। বর্তমানে তার মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত জয়নাল আবেদিন খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেড. এ. মাহমুদ ডনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্না (মুন্না চেয়ারম্যান) গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিহত হন। কারা কতৃপক্ষ এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বললেও, পরিবার এটিকে হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছে।

এক বগুড়া কারাগারেই পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতাকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হত্যা করা হয়। গতবছর ১১ নভেম্বর থেকে এবছরের ১১ মার্চ পর্যন্ত চার মাসে বগুড়া কারাগারে বন্দী থাকা পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতার নৃশংস হত্যাকান্ড চালানো হয় ফ্যাসিস্ট ইউনূসের তত্ত্বাবধানে। শুধু খুলনা, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম কিংবা বগুড়া নয় নির্বিচারে জেল হত্যা চলছে মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা সহ সারাদেশব্যপী। জেলহত্যার বেশিরভাগ খবরই মানুষের অগোচরেই থাকছে, কারণ দেশের মিডিয়া হাউজগুলো অনেকাংশেই ইউনূস গংয়ের নজরদারির আওয়তায় বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রিত।

অসুস্থতা বলে কারাবন্দিদের সুকৌশলে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনকে ডেঙ্গু হবার পরেও ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্দেশে বারবার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে পিজি হাসপাতালের ডিরেক্টর। শেষ মূহুর্তে হাসপাতালে নিলেও মৃত্যুর পরেও তার হাতে ছিলো হাতকড়া। একই রকম চিত্র ছিলো গাইবান্ধার নিহত মুন্না চেয়ারম্যানের মৃত্যুর দিনেও।

মিথ্যা মামলার পাশাপাশি কারাগারে সুকৌশলে হত্যাযজ্ঞ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবাধিকারের মায়াকান্নায় বুদ হয়ে থাকলেও এখন কেন এসব নারকীয় হত্যাযজ্ঞ তাদের নজরে আসছেনা? ফ্যাসিস্ট ইউনূসের হিংস্রতা দিনকে দিন অমানবিকতার মাত্রা ছাড়াচ্ছে, আজ গুম- হত্যা-ধর্ষণসহ সারাদেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটলেও সংস্থাগুলোর তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু এই অনাচার থেকে তো বাঁচতে হবে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হত্যাকারী ইউনূস গংদের শুধু ক্ষমতা নয়, উচ্ছেদ করতে হবে বাংলার মাটি থেকেও।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত