Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের রক্তাক্ত অধ্যায় এখনো জাতির হৃদয়ে ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। ছাত্র আন্দোলনের নামে সংঘটিত তথাকথিত “জুলাই বিপ্লব” ছিল একটি সুনির্দিষ্ট, সুসজ্জিত পরিকল্পনা, যার ফলে শত শত মানুষের প্রাণহানি, অর্থনীতির ধ্বংস এবং দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। এই নির্মম “প্রজেক্ট”-এর মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সামনে এসেছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নাম। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে “দারিদ্র্য নিরসন”-এর ছদ্মবেশে বিশ্বকে মুগ্ধ করলেও, তার রাজনৈতিক সহিংসতার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা এখন প্রকাশ্যে।
আবু সাঈদের হত্যা: প্রজেক্টের প্রথম মাইলফলক
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এটি কোনো দুর্ঘটনা বা স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা ছিল না, বরং ইউনুসের নেতৃত্বাধীন “প্রজেক্ট”-এর একটি সুপরিকল্পিত অংশ। ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ-এ ইউনুস নিজেই স্বীকার করেছেন, এই “বিপ্লব” ছিল “মেটিকিউলাসলি ডিজাইন করা”। তিনি এর মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নাম উল্লেখ করেছেন, যিনি তার সঙ্গে মিলে এই রক্তপাতের নকশা তৈরি করেন। আবু সাঈদের হত্যাকে “শহীদ” হিসেবে প্রচার করে ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পথ প্রশস্ত করে।
চরমপন্থীদের উত্থান ও সংখ্যালঘু নির্যাতন
ইউনুসের শাসনামলে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আইএসআইএস-এর মতো সংগঠনের পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংস করা হয়। হিন্দু মন্দির, খ্রিস্টান চার্চ এবং বৌদ্ধ স্থানের উপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্টে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পুলিশ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। ইউনুসের সরকার এই হামলাগুলোকে “অনিয়ন্ত্রিত” বলে এড়িয়ে গেলেও, ইউএনের রিপোর্টে ২০২৪-এর আগস্ট থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ২,০০০-এর বেশি হামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইউনুসের সরকার কাউন্টার-টেররিজম আইন ব্যবহার করে সমালোচকদের দমন করছে।
গ্রামীণ ব্যাংক: শোষণের হাতিয়ার
ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের “মাইক্রোলোন” প্রকল্প দরিদ্র মানুষকে ৪০-৫০% সুদে ঋণের ফাঁদে ফেলেছে। ঋণ শোধে ব্যর্থ হলে সামাজিক বয়কট, অপমান, এমনকি ধর্ষণ ও মারধরের মতো নির্মমতার অভিযোগ উঠেছে। ইউনুসের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকার ৩৮টি কর ফাঁকির মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ।
অর্থনৈতিক ধ্বংস ও ক্ষমতার খেলা
ইউনুসের শাসনামলে অর্থনীতি ধসে পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোভিড-পরবর্তী সময়ের সর্বনিম্ন, মুদ্রাস্ফীতি ৮.৩৬%-এ উঠেছে, এবং যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে। তবুও ইউনুসের সহযোগীরা বিলাসিতায় মগ্ন। গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি শেয়ার ২৫% থেকে ১০%-এ নামিয়ে এবং ৫ বছরের কর ছাড় দিয়ে তিনি তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করছেন।
বিদেশি স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের হুমকি
ইউনুসের সরকারে বিদেশি নাগরিকদের জাতীয় নিরাপত্তার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (যিনি আমেরিকার স্বার্থে কাজ করছেন) এবং বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিক (যিনি যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের স্বার্থে কাজ করছেন) দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করছেন। মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন অভিযোগ করেছেন, ইউনুস বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ধ্বংস করতে চান।
ইউনুসের মুখোশ উন্মোচনের সময়
ইউনুসের এক হাতে রক্ত, অন্য হাতে বই। তিনি “শহীদ”-দের গল্পকে রোমান্টিক করে বিশ্বে “পুনর্নির্মাণ”-এর প্রচারণা চালালেও, বাস্তবে তিনি লাশের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতার হাসি হাসছেন। নির্বাচন বিলম্বিত করে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে তিনি ক্ষমতায় অটল থাকার চক্রান্ত করছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ইউনুসের এই নির্মম প্রজেক্টের মুখোশ খুলে ফেলা এখন সময়ের দাবি।
আরো পড়ুন

