Friday, January 30, 2026

সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে মরিয়া জাতিসংঘ

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘকে দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশপ্রেমীক সেনাবাহিনীকে। গত জুলাই আন্দোলন থেকে তারা বিভিন্নভাবে এই বাহিনীকে চাপ দেয় দেশদ্রোহীদের পক্ষ নেওয়ার জন্য। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৫ জন সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের বাংলাদেশ মিশন প্রধান হুমা খানের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা শুরু হওয়া জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— চলমান ও বিতর্কিত মামলায় জাতিসংঘের প্রতিনিধি এক পক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে কি জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছেন?

এদিকে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও এ ধরনের উপস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হতো, তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি আরও স্পর্শকাতর।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর অতীতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব ছিল, বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে। কিন্তু ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দপ্তরটি নির্বিচার আটক, গণগ্রেপ্তার, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, রাজনৈতিক হত্যা, ও দলীয় কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুতর বিষয়গুলোতে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত সুপারিশের সরাসরি বিরোধিতা করে। তবুও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

গত ১৪ মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, জনতা কর্তৃক হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণগ্রেপ্তার, নির্বিচার আটক, এবং হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে— জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও এর মিশন প্রধান হুমা খান কি এসব ঘটনাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন, নাকি দপ্তরটির কার্যত রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখাচ্ছে?

সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে একটি খ্রিস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও এরসঙ্গে উল্লেখযোগ্য অংশ আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করা। সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে পারলেই দেশে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটবে। আর এতে করে দেশে মার্কিনি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সহজ হবে।

গত বছর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা ও অরাজকতা। সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কারাগারে হামলা, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মুক্তি, এবং পুলিশের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এসব ঘটনার পরও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার টুর্ক কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং ২৫ জুলাই ২০২৪-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি একতরফাভাবে সরকারের সমালোচনা করে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিলেও, পুলিশ সদস্যদের নির্মম হত্যা, যেমন—এএসআই মোক্তাদিরকে ঝুলিয়ে হত্যা এবং বনানীতে পরিদর্শক মাসুদ পারভেজকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন।

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ নিয়ে হুমকি। মার্চ ২০২৫-এ বিবিসির হার্ড টক অনুষ্ঠানে ভলকার টুর্ক নিজেই জানান, আন্দোলন দমন করতে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হলে, তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে আর থাকতে দেওয়া হবে না।

এই হুমকির পর সেনাবাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলাফল— সহিংসতা আরও বাড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনী জাতিসংঘের চাপের কারণে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকে, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তোলে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ যখন সেনাবাহিনীকে হুমকি দেয়, তখন সেটা কার্যত আইন শৃঙ্খলার ভাঙনকে উৎসাহ দেওয়ার সামিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়—জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের পক্ষগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব মতে নিহত সংখ্যা যথাক্রমে ৮২০ এবং ৮৩৪। রিপোর্টে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর সহিংস হামলা, বাসাবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ও গণপিটুনির ঘটনাগুলো উপেক্ষা করা হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভলকার টুর্ক আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন, যেন তিনি মানবাধিকার কমিশনার নন, বরং রাজনৈতিক পক্ষের মুখপাত্র।

এদিকে জাতিসংঘ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস জাতিসংঘের ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানান। তার বক্তব্য— গত বছরের জুলাই-আগস্টের অন্ধকার সময়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে ছিল।”

এই বক্তব্য অনেকের কাছে জাতিসংঘের সরাসরি হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তি বলে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, “জাতিসংঘ এবং ড. ইউনুসের বোঝাপড়া ছিল পূর্বনির্ধারিত। শেখ হাসিনাকে সরিয়ে এমন একজনকে বসানো হয়েছে, যিনি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেন।”

প্রথমে “গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন” হিসেবে প্রচারিত হলেও এখন জুলাই আন্দোলন রাজনৈতিক প্রকৌশলের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। শেখ হাসিনা বারবার পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। ৫ আগস্টের পর সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও রাখাইন করিডোর নিয়ে বিদেশি কূটনৈতিক তৎপরতা সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে কার্যত একটি পক্ষ হয়ে গেছে। এতে দেশের গণতন্ত্রকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে একটি খ্রিস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও এরসঙ্গে উল্লেখযোগ্য অংশ আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করা। সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে পারলেই দেশে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটবে। আর এতে করে দেশে মার্কিনি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সহজ হবে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত