Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাতারবাড়ী, কক্সবাজার, মহেশখালী সবকিছু মিলিয়ে একযোগে বন্দর উন্নত করি, তাহলে পুরো এলাকা নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, যে সুর আজকে আমরা এখানে বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর। ঐক্যের সুর দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে। আজ শুক্রবার জুলাই সনস স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর, ভোট, বন্দর নিয়ে পরিকল্পনা খোলাসা করে দিয়েছেন তিনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে একটি বিতর্কিত ও উদ্বেগজনক পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে। দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন দিলেও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চান। এরইমধ্যে এই পরিকল্পনার নীল নকশাও তৈরি হয়েছে।
সূত্র বলছে, ইউনূস তার ঘনিষ্ঠ জনদের দিয়ে ১০০ আসন ধরে রাখতে চান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ১০০ জনকে স্বতন্ত্রভাবে জিতিয়ে আনতে চান ইউনূস। ঐক্যের সমঝোতা হলে জামায়াত ১০০ আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ থেকে স্পষ্ট যে তারাও ইউনূসকে ১০০ আসন ছেড়ে দিতে চায়।
এই ১০০ আসন ছেড়ে দিলে আসলে কী হবে? সূত্র বলছে, বিএনপিকে ১০০ আসন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউনূস-জামায়াত জোট। আর ইউনূসের কাছে ১০০ আসন থাকলে যে কোনো দলই সরকার গঠন করতে হলে তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ ও পছন্দের মানুষজনকে রাখতে হবে। ১০০ আসন পেলে তাদের ছাড়া সরকার গঠন করার সম্ভব হবে না।
এই পরিকল্পনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইউনুস নিয়ন্ত্রিত সরকারের অধীনে এমন আসন বণ্টনের এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ছাড়া এই ধরনের পরিকল্পনা দেশকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া জরুরি, অন্যথায় গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও দুর্বল হবে।
এদিকে বাংলাদেশের একটি অংশ দখলে তৎপর হয়ে উঠেছে আমেরিকা। এ লক্ষ্যে দেশটি ঘনঘন সেনাবহর, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশে। আর এসব পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রামে। তাদের নজর বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমার মূল্যবান খনিজ সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, এবং সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল ‘ক্লে’, এখন লুটপাটের হুমকির মুখে। গত ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নরওয়ের অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডজোফ নানসেন’ বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপের নামে প্রবেশ করে।
তবে এই জরিপের আড়ালে অগভীর সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুটের মার্কিন পরিকল্পনা রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ফিৎসজেরাল্ড। এর আগে গত মাসে চট্টগ্রামে মার্কিন বিমানবাহিনীর মহড়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র “কোয়াড পোর্টস ফর ফিউচার” কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে একটি বন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করা এবং চীনের প্রভাব কমানো। সম্প্রতি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে প্রাথমিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম ধাপে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর তারা বন্দর নির্মাণ বা উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে। সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সেন্টমার্টিন দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ প্রায় ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিতে আগ্রহী। প্রথমে দ্বীপের একটি অংশ বিদেশিদের জন্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলেও, পরবর্তী সময়ে। সেটি সামরিক ঘাঁটিতে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সরাসরি আপত্তি না তুললেও চীন ও ভারতের বিরোধিতার ঝুঁকি নিয়েই চিন্তিত
আমেরিকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঠিকানা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর। মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু, মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরেও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সঙ্গে তুলনীয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অতীতে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এ ধরনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়েছে এবং বিমান ঘাঁটি স্থাপনের কথাও তোলা হয়েছিল।
একাধিক সূত্র দাবি করছে, পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন

