Share
বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে, তার আড়ালে ঘনিয়ে আসছে এক ভয়ঙ্কর হুমকি। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসকে সংস্কারের প্রতীক হিসেবে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে, সেখানে বাস্তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ইসলামপন্থী জনতন্ত্রের (mobocracy) দিকে অগ্রসর হচ্ছে—যেখানে গণতন্ত্রের আড়ালে গড়ে উঠছে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের নতুন সাম্রাজ্য।
চট্টগ্রাম বন্দরের পুরনো ছায়া
২০০৪ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আমদানির চেষ্টা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অন্ধ অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল ইসলামপন্থী জঙ্গি ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র সরবরাহ করা। এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী দীর্ঘ কারাবাস শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুক্তি পান।
কিন্তু মুক্তির পর তার কর্মকাণ্ড আবারও গোয়েন্দা মহলকে উদ্বিগ্ন করেছে। চলতি বছরের জুন মাসে (৬ থেকে ১৮ জুন) তার গোপন চীন সফর—যা আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও লিপিবদ্ধ নয় ধারণা করা হচ্ছে অস্ত্র সংগ্রহের নতুন উৎস অনুসন্ধানেরই অংশ ছিল।
ইসলামপন্থী মিলিশিয়ার নতুন নকশা
রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, আজমি, জিয়াউল হক, হাসান নাসিরসহ আরও কয়েকজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য, একটি “ইসলামী মিলিশিয়া” গঠন করা—যা ভয় ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করবে এবং বাংলাদেশকে ইরান কিংবা আফগানিস্তানের মতো একটি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
এই গোষ্ঠী এখন সরকার ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়। তাদের কৌশল হলো ইউনূস সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে মুক্তচিন্তার বা বিরোধিতাকারী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া। এক অর্থে এটি হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে মতাদর্শিকভাবে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা।
জঙ্গিদের পুনরুত্থান
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউনূস সরকারের মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন কট্টর ইসলামপন্থী জঙ্গি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানি যিনি তার সাজা শেষ হওয়ার আগেই কারামুক্তি পেয়েছেন।
এই মুক্ত জঙ্গিরা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে “ইসলামী জনতা” নামে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করছে। এদের টার্গেট উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব, যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আলোচনা সভায় হামলার চেষ্টা তারই ইঙ্গিত বহন করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের অন্ধ সমর্থন
যখন পশ্চিমা বিশ্ব ইউনূসের সরকারকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করছে, তখন বাস্তবে তার প্রশাসনই মৌলবাদীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধি, প্রাক্তন জঙ্গিদের মুক্তি, এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে মতাদর্শিক রদবদল—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিমা শক্তিগুলো, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ, ইউনূস সরকারের “গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি” দেখে খুশি হলেও তারা বুঝতে পারছে না এই গণতন্ত্রের আড়ালেই গড়ে উঠছে এক উগ্র ইসলামপন্থী রাষ্ট্রযন্ত্র, যা একদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রহস্যজনক ঘটনা
সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে এক মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো নিছক কাকতালীয় নয়; বরং এগুলো বাংলাদেশের ভেতরে সক্রিয় মৌলবাদী নেটওয়ার্কের ইঙ্গিতবাহী।
অন্ধকারের পথে পতন
আজ যখন পশ্চিমা বিশ্ব হাততালি দিচ্ছে “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বাংলাদেশ” দেখে, তখন বাস্তবে এই ভূমিতেই অদৃশ্যভাবে গড়ে উঠছে এক “ইসলামী জনতন্ত্র” যেখানে ভোটের নামে ধর্মীয় সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।
বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, উগ্রবাদ কখনোই গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। তাই এখনই যদি দেশীয় বিবেকবান সমাজ, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহল সজাগ না হয়, তবে বাংলাদেশ আবারও মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে।
আরো পড়ুন

