Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে একের পর এক চলছে নাশকতা। আর এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে সহায়তার নাম করে তাদের কাছে দেশ বিক্রির পাঁয়তারা করছেন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোল প্লাজার কাছে বিআরটিসির একটি চলন্ত বাসে হঠাৎ আগুন লাগে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ৩০ যাত্রী। সম্প্রতি নগরীর মুরাদপুর ফ্লাইওভারের স্টিল গার্ডার থেকে অন্তত ১৪০টি নাট-বোল্ট ও ৫৩টি ওয়াশার খুলে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই ঢাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত আগস্টে উদ্বোধনের পরদিনই তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর প্রায় প্রায় ৩০০ মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির হয়। কদিন আগেই যমুনা নদীর তীরে নির্মিত সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে সোলার পাওয়ার প্লান্ট থেকে প্রায় কোটি টাকার তামার তারসহ আনুসাঙ্গিক মালামাল লুট করা হয়েছে।
এর সঙ্গে দেশে একের পর এক ঘটছে নাশকতার ঘটনা/ সবশেষ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুনের ঘটনা ঘটে। কার্গো নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাওয়া ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে অনুমান করছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতারা। এ ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ১৯ অক্টোবর ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসে আগুন লাগে। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানায় আগুন লাগে, যা টানা ১৭ ঘণ্টা জ্বলার পর নিয়ন্ত্রণে আসে। একই দিন রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি সূতার মিলে অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এছাড়া, গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গোডাউন এবং পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। এই ঘটনায় ১৬ জন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র পরিণত করে বিদেশি সহায়তা আনতে চাইছেন। আর এরমাধ্যমে তিনি দেশ আমেরিকার কাছে সহজেই হস্তান্তর করতে পারবেন। এরইমধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আমেরিকার ষড়যন্ত্র চলছেই। বিশেষ করে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমেরিকার কাছে চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন খুব শিগগিরই হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন। সূত্র বলছে, এ সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে।
আমেরিকা কীভাবে একটি দেশ দখল করে তা ইউক্রেনের দিকে তাকালে বোঝা যায়। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর থেকে আমেরিকা ইউক্রেনকে বিপুল অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে। এর বিনিময়ে আমেরিকা সেখান থেকে বিরল খনিজ আহরোণের চিন্তা করছে। যার দাম অস্ত্র থেকে অনেক বেশি। আর এগুলো সারা বিশ্বে সচারচর মেলে না। এদিকে পাকিস্তানকেও ধ্বংস করেছে আমেরিকা। সেখানে একসময় ব্যাপক সহায়তা করলেও পাকিস্তান জঙ্গিবাদের উর্বরভূমি হিসেবে পরিচিত।
মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে চীন-আমেরিকা বিরোধ একইরকম ঘটনা। সূত্র বলছে, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র ও বিশ্লেষকের মতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, তাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে দৈনিক বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে তিনজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া আরো কয়েকজনের সম্ভাবনা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ, যার মধ্যে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যেন অন্য কোনো শক্তির হাতিয়ার হয়ে না পড়ে— সেই বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
আরো পড়ুন

