‘বুচারস অব গুলশান’-দের গুরু আর ইসলামকে কলঙ্কিত করা কুলাঙ্গারের জন্য লাল গালিচা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ!

Share

২০১৬ সালের সেই রাতটার কথা মনে আছে? গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে যখন বাইশটা প্রাণ ঝরে গেল, তখন পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম এটাই শেষ, এরপর আর কখনো বাংলাদেশে এমন বর্বরতা দেখতে হবে না। হামলাকারীদের একজন ধরা পড়ার পর যখন বলল সে জাকির নায়েকের ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিল, তখন আমরা অন্তত আশা করেছিলাম দেশ সচেতন হবে। সেই লোকটার টিভি চ্যানেল নিষিদ্ধ হলো, ভালোই। ভাবলাম, এই মাটিতে আর এসব বিষবাষ্প ছড়ানোর সুযোগ পাবে না কেউ।

কিন্তু নয় বছর পর আজ? সেই জাকির নায়েককেই নাকি এক মাসের জন্য দেশজুড়ে বক্তৃতা দেওয়ার সরকারি আমন্ত্রণ দেয়া হয়েছে! লাল গালিচা বিছিয়ে আমন্ত্রণ! ইউনুস নিজেই সকল বন্দোবস্ত করেছে। ব্যাপারটা কেমন যেন লাগছে না? মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছে করেই সেই পুরনো ক্ষতে নুন ছিটাচ্ছে?

ইউনুস সাহেবের গ্রামীণ ব্যাংকের কুকীর্তির কথা সবাই জানে। কিন্তু সেই ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে বিতর্ক আছে। কতটা আসলে মানুষের উপকার হয়েছে, কতটা উল্টো ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সেসব তো আলাদা প্রসঙ্গ। এখানে প্রশ্ন হলো, একজন পলাতক আসামি, যার নামে ভারতে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনে মামলা, যার বক্তৃতায় প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশেই মানুষ মরেছে – তাকে কেন লাল গালিচায় আনা হচ্ছে?

ভারত কতবার মালয়েশিয়ার কাছে নায়েককে ফেরত চেয়েছে। কুয়ালালামপুর রাজি হয়নি। ঠিক আছে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশ কেন সক্রিয়ভাবে তাকে আমন্ত্রণ জানাবে? এটা কি শুধুই একটা ধর্মীয় বক্তার সফর, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো পরিকল্পনা আছে?

পাকিস্তান গত বছর নায়েককে ডেকে নিয়েছিল। সেখানে তিনি দেখা করেছিলেন লস্কর-ই-তইয়েবার নেতাদের সঙ্গে। এটা কোনো গুজব নয়, ভিডিও ফুটেজ আছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সেই সংগঠন। আমেরিকা যাদের সন্ত্রাসী সংগঠন বলে চিহ্নিত করেছে। লাহোরের বাদশাহী মসজিদে দেড় লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দিয়েছিলেন নায়েক, পুলিশি নিরাপত্তায়। পাকিস্তান তার পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন সেই একই পথে হাঁটবে?

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা এই মাটিতে যা করে গেছে, তা কি আমরা ভুলে গেছি? তিরিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম। জামায়াত-শিবির তখন পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, রাজাকারদের দল বানিয়ে হত্যা করেছিল নিজের দেশের মানুষকে। আর এখন সেই জামায়াতই পুরো দেশ চালাচ্ছে। তাদের লোকজন সরকারে, প্রশাসনে ঢুকে পড়ছে। আর এখন জাকির নায়েকের মতো একজন মানুষকে ডেকে আনা হচ্ছে, যার ভিডিওতে জঙ্গিরা অনুপ্রেরণা পায়।

আফগানিস্তানের দিকে তাঁকান। একসময় সেখানে নারীরা স্কুলে পড়ত, চাকরি করত। এখন তালেবানের শাসনে তারা ঘরবন্দি। সিরিয়ায় দশ বছরের গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে, দেশটা একটা ধ্বংসস্তূপ। পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয়, সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায়। বাংলাদেশকে কি সেই পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

হলি আর্টিজানে যে তরুণরা মারা গিয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই ছিল শিক্ষিত, আধুনিক, স্বপ্ন দেখা ছেলেমেয়ে। কিন্তু তারা বিপথে গিয়েছিল। কেন? কারণ তাদের মাথায় জেহাদের বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাকির নায়েকের মতো মানুষদের বক্তৃতাই সেই বিষ। আর এখন সেই বিষ ছড়ানোর জন্য সরকারি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। একমাস ধরে পুরো দেশ ঘুরে ঘুরে বক্তৃতা দেবেন। কতজন তরুণ আবার বিপথে যাবে? আরেকটা হলি আর্টিজান দেখতে হবে আমাদের?

এই সিদ্ধান্তের দায় সেই সকল সেনা কর্মকর্তারা যারা জুলাই দাঙ্গায় সায় দিয়েছেন। দায়ী সেই বিদেশি শক্তিরাও, যারা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতায় আনার পেছনে কাজ করেছে। বাংলাদেশকে একটা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আর ইউনুস সাহেব যেন সেই ষড়যন্ত্রের মূল মাথা।

বাংলাদেশ একাত্তরে জন্মেছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, আর মানবিকতার আদর্শে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন – এই মাটির সংস্কৃতি উদার, খোলামেলা। এখানে মৌলবাদের জায়গা নেই। কিন্তু জামায়াত আর তাদের বিদেশি প্রভুরা এই মাটিকে বদলে দিতে চায়। তারা চায় আরেকটা পাকিস্তান। আরেকটা আফগানিস্তান।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত