Share
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলাম বরাবরই এক বিতর্কিত নাম। একদিকে তারা নিজেদের “ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারক” হিসেবে উপস্থাপন করে, অন্যদিকে একই মুখোশের আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতালিপ্সা, আর্থিক দখল ও সহিংস রাজনীতি। ইউনুস সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সংগঠনটি শুধু পুনরুজ্জীবিতই হয়নি, বরং রাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ধর্মের আবরণে অধর্মের যে রাজনীতি তারা চালিয়ে যাচ্ছে, তা এখন রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
জামায়াত ইসলামের মূল চরিত্র সব সময়ই ছিল দ্বিমুখী—একদিকে ধর্মের দোহাই, অন্যদিকে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব। ইউনুস সরকারের সময়ে তারা এই কৌশল আরও দক্ষভাবে প্রয়োগ করছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জামায়াতপন্থী ব্যক্তিদের প্রভাব বেড়েছে, ফলে তারা এখন প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। জনগণের মধ্যে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে তারা বাস্তবে ক্ষমতার মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের আর্থিক বিস্তার চোখে পড়ার মতো। দেশের অন্তত দশটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে তারা শুধু অর্থ পাচারই করছে না, বরং রাজনৈতিক তহবিল, জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও বাজার সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ভিত্তিও তৈরি করছে। এর ফলে একদিকে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে, অন্যদিকে এই লাভের টাকা প্রবাহিত হচ্ছে ধর্মীয় আবরণের পেছনে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক দানবের ভাণ্ডারে।
বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও জামায়াতের প্রভাব এখন ভয়াবহ। তারা ভোজ্যতেল, চিনি, গম, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে কৃত্রিমভাবে অস্থিতিশীল করছে। উদ্দেশ্য একটাই—অর্থনৈতিকভাবে মানুষকে বিপদে ফেলা । ইউনুস সরকারের নীরবতা বা সমর্থন এই চক্রকে আরও সাহসী করে তুলেছে।
অপরাধের ক্ষেত্রেও জামায়াতের সক্রিয়তা বাড়ছে। সারাদেশে ধর্ষণ, মব করে হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন—এসব অপরাধে তাদের নেতাকর্মীদের জড়িত পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। হাতে নাতে ধরা পড়ছে অসংখ্য জামায়াত নেতা, কিন্তু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, ইউনুস সরকারের একাংশ হয়তো তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে, কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে এই নীরবতা বজায় রাখছে।
সম্প্রতি জামায়াতের একাধিক কার্যালয়ে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ মজুদ পাওয়া গেছে। যা প্রমাণ করে, তারা শুধু ধর্ম বা রাজনীতির আড়ালেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপরও হাত বাড়িয়েছে। কৃষকের নামে দেওয়া প্রণোদনা তারা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। ধর্মের নামে এ এক ভয়াবহ অধর্ম।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত তাদের অপতৎপরতার শিকার হচ্ছে। একাধিক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাঙচুর ও স্মৃতিস্তম্ভ বিকৃতির পেছনে জামায়াতের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এটি শুধু ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে, জামায়াতের এই ধর্মীয় মুখোশ কেবল প্রতারণার আড়াল। তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ধর্ম নয়, বরং ক্ষমতা ও সম্পদ দখল। ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক ছায়ায় তারা যে ভয়ঙ্করভাবে পুনর্গঠিত হচ্ছে, তা দেশের জন্য এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ধর্মের নামে অধর্ম, নীতির নামে প্রতারণা এবং দেশপ্রেমের নামে ষড়যন্ত্র—এই হলো আজকের জামায়াত ইসলামের বাস্তব রূপ। রাষ্ট্র ও সমাজকে যদি এই অন্ধকার গহ্বর থেকে বাঁচাতে হয়, তবে এখনই প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। নইলে ধর্মের পবিত্রতা ও স্বাধীনতার চেতনা দুটোই একসাথে বিলীন হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন

