Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির দিন। সকাল থেকেই রাজধানীর চিত্র ছিল এক অন্য রকম। রাস্তাঘাট ফাঁকা, দোকানপাট বন্ধ, যানবাহনের চাকা প্রায় থেমে গেছে। কোথাও সংঘাত নেই, কোথাও বিশৃঙ্খলা নেই— তবু শহর যেন থেমে গেছে এক অদ্ভুত নীরবতায়।
আমার দায়িত্ব ছিল ঢাকায়, তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা আতঙ্ক ছিল—না জানি কোনো অঘটন ঘটে কি না। কিন্তু সারাদিনের পর্যবেক্ষণে যা দেখলাম, তা আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। আওয়ামী লীগকে আজ খুব বেশি কিছু করতে হয়নি; সাধারণ মানুষই এই লকডাউনকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করে তুলেছে। কোনো দলীয় তৎপরতা ছাড়াই জনতার এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে—দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়, চায় তাদের প্রিয় দল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরাপদ বাংলাদেশকে ফিরে পেতে।
করোনা মহামারীর সময়েও আমরা এমন শৃঙ্খল লকডাউন দেখিনি। আজকের এই নীরবতা আসলে এক ধরনের প্রতিবাদ—অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নীরব আওয়াজ। মানুষ রাস্তায় নামেনি, কিন্তু তাদের নীরবতা আজ লাখো কণ্ঠের মতো প্রতিধ্বনিত হয়েছে—“আমরা পরিবর্তন চাই, আমরা শেখ হাসিনাকে চাই।”
মাত্র ১৫ মাসে বর্তমান সরকারের উপর থেকে মানুষের আস্থা এভাবে ভেঙে পড়বে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। এই অল্প সময়েই দেশে চরম অব্যবস্থাপনা, ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। অথচ মানুষ এখনো আশা হারায়নি—তারা জানে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাতেই সম্ভব।
আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তারাও এ কথা অস্বীকার করতে পারি না যে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আমরা ক্লান্ত, আমরা শান্তি চাই। দেশের জন্য, জাতির জন্য একটি মঙ্গলজনক ও স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত আসুক—এটাই আজ সবার প্রার্থনা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জাতির শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা বিশ্বাস করি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে। আজকের এই লকডাউন ছিল কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি ছিল জনগণের নীরব জাগরণ—একটি নতুন সূচনার সংকেত।
বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠছে, ন্যায়ের পতাকা উঁচিয়ে, গণমানুষের স্বপ্ন নিয়ে। দেশ যার হাতে নিরাপদ আমরা তাকেই সমর্থন করি।
আরো পড়ুন

