Share
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শুরুর আগেই যে সার্কাস দেখা যাচ্ছে, তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুপরিকল্পিত নীলনকশা ছাড়া আর কিছু নয়। বিদেশি মদদপুষ্ট জুলাই দাঙ্গার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারী মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসে বিপিএল পরিণত হয়েছে অনিয়ম আর লুটপাটের খোলা বাজারে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই লুটপাটের উৎসব চলছে পুরোদমে।
গত বছরের জুলাই মাসে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে যে দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলা। ক্রীড়াঙ্গনও বাদ যায়নি সেই তালিকা থেকে। সুদী মহাজন ইউনুসের এই অবৈধ সরকার জানে যে তাদের দিন বেশি নেই। তাই যতদিন আছে, ততদিন যা পারা যায় লুটে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তারা।
বিপিএলের এবারের আয়োজন দেখলেই বোঝা যায়, এটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, বরং অর্থ লুটপাটের একটা সুবিধাজনক মাধ্যম। প্রথমে পাঁচ দল, তারপর হঠাৎ ছয় দল। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা বারবার বাড়ানো হচ্ছে। দুই দল এখনও পুরো টাকা দিতে পারেনি, আর বাকিরা নাকি বিসিবির টাকায় তাদের দায় মিটিয়েছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না। মানে ফ্র্যাঞ্চাইজির টাকা দেবে বিসিবি, আর ফ্র্যাঞ্চাইজিরা মুনাফা নিয়ে যাবে? এটা কি টুর্নামেন্ট নাকি দাতব্য সংস্থা?
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক। তার তত্ত্বাবধানে বিসিবিকে পরিণত করা হয়েছে একটা বিশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানে যেখানে কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না, স্বচ্ছতা বলে কিছু নেই। ১১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও প্রথমে পাঁচটিকে নেওয়া হলো, তারপর হঠাৎ করেই শেষ মুহূর্তে আরেকটি দল ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। কোন মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। স্বচ্ছতা তো দূরের কথা, প্রাথমিক তথ্যও জনগণের সামনে আনা হচ্ছে না।
বিসিবির সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু নিজেই স্বীকার করেছেন যে তারা আগুন নেভাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই আগুন লাগালো কারা? যারা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই একটা আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়েছে, তারাই তো এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী। সাত-আট মাস সময় লাগতো ঠিকমতো আয়োজন করতে, এই কথা যদি তারা জানেনই, তাহলে এই তাড়াহুড়োর কারণ কী? কারণটা খুব পরিষ্কার, অবৈধ সরকারের আয়ুষ্কাল নিয়ে তারা নিজেরাই নিশ্চিত নন। তাই যতদিন সময় আছে, ততদিন যা করার করে নেওয়ার তাড়া।
সম্প্রচার অধিকার নিয়েও একই গোলমাল। আগে যারা করতো তাদের সরিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান আনা হলো। অভিজ্ঞতার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু আসল কারণ কি সেটাই, নাকি অন্য কিছু? এই ধরনের বড় সিদ্ধান্তগুলো যখন কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই নেওয়া হয়, তখন প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।
বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে তরুণ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের এক্সপোজার পায়, দেশীয় ক্রিকেটের মান উন্নত হয়। কিন্তু ইউনুসের অবৈধ সরকার এবং তার নিয়োজিত আসিফ মাহমুদ এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছেন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। তারা চাইছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে যেতে যাতে পরবর্তী সরকার এসে আর সেটা ঠিক করতে না পারে।
ক্রিকেট বোর্ডের যে আর্থিক সক্ষমতা আছে, সেটা জনগণের ভালোবাসা আর সমর্থনের ফসল। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার পেছনে আছে লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর স্বপ্ন আর আবেগ। সেই সম্পদ এখন ব্যবহার হচ্ছে এক ঝাঁক অযোগ্য আর দুর্নীতিবাজ ফ্র্যাঞ্চাইজির পকেট ভরতে। যারা নিজেদের টাকা দিয়ে দল কেনার সামর্থ্যও রাখে না, তাদেরকে বিসিবির টাকায় সহায়তা করা হচ্ছে। এটা জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
ইউনুসের এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় এসেছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদদলিত করে। তারা জানে যে জনগণের কোনো সমর্থন তাদের নেই। তাই তারা চেষ্টা করছে যতদিন আছে ততদিন দেশের প্রতিটা সেক্টর থেকে যা পারা যায় লুটে নিতে। ক্রীড়াঙ্গনও তাদের সেই লুটপাটের তালিকার বাইরে নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, এমন কোনো সেক্টর নেই যেটা এই অবৈধ সরকারের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আসিফ মাহমুদের মতো একজন ব্যক্তিকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বানানোর পেছনে উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। যার ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই, যিনি রাতারাতি এই পদে বসানো হয়েছেন, তার কাজ হবে শুধু একটাই, নির্দেশ পালন করা। আর সেই নির্দেশ আসছে একদম উপর থেকে, ইউনুসের কাছ থেকে। লক্ষ্য একটাই, যতটা সম্ভব লুটে নেওয়া এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।
এই বিপিএল শেষ হওয়ার পর যখন হিসাব নেওয়া হবে, তখন দেখা যাবে কত টাকা লোপাট হয়েছে, কারা কারা এর সুবিধাভোগী হয়েছে। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম, বিশ্বাসযোগ্যতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সবকিছুতেই আঘাত লাগবে। আর এটাই তো চায় এই অবৈধ সরকার। তারা চায় পরবর্তী যে সরকার আসবে, সে যেন একটা ধ্বংসস্তূপ পায়, যেটা পুনর্গঠন করতে বছরের পর বছর লেগে যাবে।
জুলাই দাঙ্গার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ইউনুসের সরকার একের পর এক দেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। আর বিপিএলের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাকে ব্যবহার করে তারা নিজেদের এবং তাদের পছন্দের মানুষদের পকেট ভরছে, আর একই সাথে ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।
আরো পড়ুন

