জামায়াত আর পাকিস্তানপন্থীদের স্বর্গরাজ্য: ইউনুসের বাংলাদেশ ২.০ কোন পথে?

Share

সন্দ্বীপের মাঠে যখন “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” স্লোগান উঠছিল, তখন মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত সরকার কোথায় ছিল? যে অ-সরকার দেশের প্রতিটি কোণায় নজরদারি চালায়, যে অ-সরকার বিরোধী মতের মানুষদের খুঁজে বের করতে রাত দিন তৎপর, সেই সরকার কেন এই জঘন্য ঘটনার পর নীরব থাকল? উত্তরটা একই সাথে সহজ এবং ভয়াবহ : কারণ এটাই তাদের আসল এজেন্ডা। জুলাইয়ের দাঙ্গা, নির্বাচিত সরকারের উৎখাত, আর পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান, সবকিছুই একই সূত্রে গাঁথা।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা যে গণহত্যা চালিয়েছিল, যে তিরিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল, যে দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুট করেছিল, আজ সেই পাকিস্তানের জয়গান গাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র ইউনুস সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যে অগ্নিসংযোগ হয়েছিল, যে লুটপাট হয়েছিল, তার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিদেশি শক্তির অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থন, আর সামরিক বাহিনীর একাংশের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা, এসব মিলে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়।

ইউনুস সাহেব নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ক্ষুদ্রঋণের জন্য। কিন্তু সেই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসা আসলে কী ছিল? দরিদ্র মানুষদের চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে তাদের আরও দরিদ্র বানানোর একটা পদ্ধতি। এই ব্যক্তি যখন ক্ষমতায় আসেন অবৈধভাবে, তখন তার পাশে দাঁড়ায় কারা? জামায়াতে ইসলামী, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে এদেশের মানুষ হত্যা করেছিল। হিজবুত তাহরীরের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের লোকজন, যারা খিলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।

সন্দ্বীপের ঘটনাটা একটা ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ। প্রথমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হল, তরুণদের মাথায় বিভ্রান্তিকর ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হল, তারপর সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়ে সরকার পতন ঘটানো হল। এখন শুরু হয়েছে মূল কাজ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা, পাকিস্তানপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে দেওয়া, এবং ধর্মের নামে মানুষের মগজধোলাই করা।

পাকিস্তান থেকে আসা বক্তার সম্মানে যখন এই স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, তখন সন্দ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান বাদশা বলেছেন, এটা সহ্য করা যায় না। কিন্তু ইউনুস সরকার কী বলছে? কিছুই না। সন্দ্বীপের নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, তিনি ভিডিও দেখেননি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, তার জানা নেই। এই হল বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের অবস্থা। যা ভাইরাল হয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে গেছে, সেটা তারা দেখেননি বা জানেন না। এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর কী হতে পারে?

জামায়াতে ইসলামীকে ইউনুস সরকার ক্ষমতার অংশীদার বানিয়েছে। যে দল ১৯৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, যাদের নেতারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছে, সেই দলকে আজ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, এটা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সরাসরি অপমান। যে দেশ ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে, সেই দেশে পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হল?

ইউনুস সরকারের এই নীরবতা প্রমাণ করে যে তারা আসলে এসব ঘটনা চায়। তারা চায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে মুছে ফেলতে, চায় পাকিস্তানপন্থী শক্তিকে শক্তিশালী করতে, চায় ধর্মের নামে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে। জুলাইয়ের দাঙ্গার সময় যেভাবে পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া হয়েছিল, সরকারি ভবন ভাঙচুর করা হয়েছিল, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তার কোনো বিচার হয়নি। বরং সেই দাঙ্গাকারীরাই এখন বীর হিসেবে চিত্রিত হচ্ছে।

এই সরকার যে অবৈধ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো নির্বাচন ছাড়া, জনগণের রায় ছাড়া, সংবিধানের ধার না ধেরে ক্ষমতায় বসে আছেন ইউনুস। তাদের বৈধতার একমাত্র ভিত্তি হল সামরিক বাহিনীর সমর্থন এবং বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ। আর সেই বিদেশি শক্তিরাই চায় বাংলাদেশ যেন একটা অস্থিতিশীল, দুর্বল রাষ্ট্র হয়ে থাকে, যেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যেখানে মানুষ বিভক্ত থাকে।

সন্দ্বীপের মঞ্চে যে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলা হয়েছে, সেটা শুধু একটা স্লোগান নয়। এটা একটা ঘোষণা যে বাংলাদেশে এখন পাকিস্তানপন্থীরা নিরাপদ বোধ করছে। এটা একটা বার্তা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন আর রক্ষা পাবে না। এটা একটা হুমকি যে যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল, তারা আবার ফিরে আসছে।

ইউনুস এবং তার সহযোগীরা জানে যে তারা কী করছে। তারা জানে যে জামায়াত এবং অন্যান্য মৌলবাদী শক্তিকে লাগাম ছাড়া করে দিলে কী হবে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য অন্য। তারা চায় একটা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীলতা সব নিষিদ্ধ হবে। সন্দ্বীপের ঘটনা সেই দিকেই একটা পদক্ষেপ। আর যতদিন এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এরকম ঘটনা বাড়তেই থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এখন হুমকির মুখে, আর সেই হুমকি আসছে ভেতর থেকেই।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত