Share
জনৈক রিমন মাছ ধরার জন্য বাড্ডার বেড়াইদে জাল ফেলেছিল মাছের সন্ধানে। তুলে আনলো এক কেজি ওজনের এন্টি এয়ারক্রাফট ফ্র্যাগমেন্টেশন রাউন্ড। এটা এমন জিনিস যা দিয়ে আকাশে উড়ন্ত বিমান ভূপাতিত করা যায়। পানিতে মাছ খুঁজতে গিয়ে যুদ্ধাস্ত্র পাওয়া, এটা কোন দেশের চিত্র? বাংলাদেশ কি এখন সিরিয়া নাকি ইয়েমেন হয়ে গেছে যে এভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে মারণাস্ত্র?
গত কয়েক মাসে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে পত্রিকায় খবর আসছে কোথাও না কোথাও গ্রেনেড পাওয়া গেছে, বোমা পাওয়া গেছে, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ঢাকা শহরের মাঝখানে, আবাসিক এলাকায়, পুকুর-ডোবায়, রাস্তার পাশে। এই অস্ত্রগুলো এলো কোথা থেকে? কারা মজুদ করেছিল এগুলো? আর কেনই বা করেছিল?
জুলাই মাসে যখন সারাদেশে পরিকল্পিত দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, তখন সেই সময়ের জুলাই সন্ত্রাসী আর বর্তমান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত সরকারকে না সরাতে পারলে তারা সম্মুখ যুদ্ধে নামবেন। সম্মুখ যুদ্ধ মানে কী? খালি হাতে যুদ্ধ? লাঠিসোটা নিয়ে যুদ্ধ? সম্মুখ যুদ্ধের জন্য তো অস্ত্র লাগে। ভারী অস্ত্র লাগে। আসিফ সাহেব সেই অস্ত্র কোথায় পেতেন সেদিন যদি প্রয়োজন হতো? উত্তর কিন্তু এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাস্ত্র মজুদ ছিল। পুরো একটা অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছিল।
বাড্ডায় পাওয়া এন্টি এয়ারক্রাফট রাউন্ড কোনো খেলনা নয়। এটা এমন ধরনের গোলা যা বিমান ভূপাতিত করার জন্য তৈরি। বিস্ফোরণের সময় এটা হাজার হাজার ধাতব টুকরো ছিটকে দেয় চারদিকে, যা উড়ন্ত বিমানের ইঞ্জিন, ডানা, ককপিট ভেদ করে পুরো বিমানকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই ধরনের রাউন্ড সেনাবাহিনীর কাছে থাকে, বিমান বিধ্বংসী কামানে ব্যবহার হয়। এটা পাড়ার মাস্তান বা ছিনতাইকারীদের অস্ত্র নয়। এটা পরিকল্পিত সশস্ত্র ক্যুয়ের অস্ত্র।
প্রশ্ন হলো, কারা সরবরাহ করেছিল এই অস্ত্র? বিদেশি কোন শক্তি কি সহায়তা করেছিল? সামরিক বাহিনীর ভেতরের কোন অংশ কি জড়িত ছিল? নাকি ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এসেছিল এসব? জুলাইয়ের দাঙ্গার সময় যেভাবে সুসংগঠিতভাবে একযোগে সারাদেশে সরকারি স্থাপনায় হামলা চলেছিল, যেভাবে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল, সেটা কি নিরস্ত্র জনগণের আন্দোলন ছিল? নাকি পরিকল্পিত সশস্ত্র ক্যু ছিল?
ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। তারা নির্বাচিত নয়, কোনো গণরায় নেই তাদের পক্ষে। তারা কোনো সাংবিধানিক পথে ক্ষমতায় আসেনি। জুলাইয়ের দাঙ্গার পর সামরিক বাহিনীর সমর্থনে তারা ক্ষমতা দখল করেছে। এখন প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুদ্ধাস্ত্র উদ্ধারের খবর আসছে, কিন্তু এই সরকারের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো তদন্ত নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারা সংগ্রহ করেছিল এই অস্ত্র? কোন উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল? এখনো কত অস্ত্র ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে?
মুহাম্মদ ইউনুস এখন রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান উপদেষ্টা। তার সরকারের দায়িত্ব জনগণকে জবাব দেওয়া। কিন্তু তিনি তো জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন, কারণ জনগণ তাকে নির্বাচিত করেনি। তার বৈধতা এসেছে সামরিক বাহিনী আর সশস্ত্র দাঙ্গার মাধ্যমে। তাই হয়তো এই অস্ত্রের খোঁজখবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না তিনি। হয়তো জানেনও তিনি এই অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল, কাদের জন্য জমা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে। যেকোনো পুকুরে, যেকোনো রাস্তায়, যেকোনো মাঠে পড়ে থাকতে পারে সক্রিয় গ্রেনেড বা বোমা। শিশুরা খেলতে গিয়ে তুলে আনতে পারে প্রাণঘাতী অস্ত্র। এই দায় কার? যারা অস্ত্র মজুদ করেছিল তাদের, নাকি যে সরকার এখন ক্ষমতায় আছে অসাংবিধানিক পথে তাদের?
দেশকে একটা অস্ত্রাগার বানিয়ে ফেলা হয়েছিল জুলাইয দাঙ্গার জন্য। এখন সেই অস্ত্রগুলো ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। কোনো হিসাব নেই, কোনো তদন্ত নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। ইউনুস সরকার দিব্যি চলছে তাদের মতো করে, কারো কাছে কোনো জবাব দিতে হচ্ছে না তাদের। কারণ তারা এসেছেন ক্যু করে, নির্বাচনে নয়। কিন্তু এই নীরবতার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যারা প্রতিদিন অজানা আতঙ্কে বাস করছে।
আরো পড়ুন

