নিজেকে নবী ইউশা (আঃ) এর সমপর্যায়ের দাবী জামায়াতের শাহাজাহান চৌধুরীর: ইসলাম কি বলছে?

Share

শাহজাহান চৌধুরী নামের এই ব্যক্তিটি এবার নিজেকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেলেন, সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। “সূর্য আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে” এই ধরনের বক্তব্য শুনে যে কোনো বিবেকবান মুসলমানের রক্ত টগবগ করে ফুটবে। এটা শুধু অহংকার নয়, এটা সরাসরি আল্লাহর নবীদের মর্যাদায় নিজেকে তুলনা করার ঔদ্ধত্য।

ইসলামের ইতিহাসে সূর্য থামিয়ে রাখার মতো মহান ঘটনা ঘটেছিল হযরত ইউশা (আ.) এর মতো মহান নবীর জন্য, যিনি বাইতুল মোকাদ্দাস বিজয়ের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন এবং আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছিলেন। সহিহ মুসলিমে স্পষ্ট বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই বলেছেন, কোনো মানুষের দাবিতে সূর্যকে থামানো হয়নি, কেবল ইউশা (আ.) এর ব্যতিক্রম। আর আজকে একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ নিজের সম্পর্কে এমন দাবি করছেন? নিজেকে নবীদের সমান ভাবছেন? এটা কি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়? এটা কি শাতিমে আম্বিয়া নয়?

জামায়াতে ইসলামী নামের এই সংগঠনটি দেশে যতদিন সক্রিয়, ততদিন ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দালাল হিসেবে কাজ করেছিল, বাঙালি হত্যায় সহায়তা করেছিল। আজ আবার নতুন করে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরে এসেছে। কীভাবে? ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল, যে দাঙ্গা হলো, তার পেছনে কাদের হাত ছিল সেটা এখন আর গোপন নেই।

নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দিয়ে, সামরিক সমর্থন আর বিদেশি অর্থায়নের জোরে ক্ষমতায় বসেছে এক অবৈধ প্রশাসন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সুদী মহাজনি ব্যবসার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে শতকরা শত ভাগ সুদ আদায় করেছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জামায়াত, যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত। এই জোট গঠন হয়েছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সহায়তায়, বিদেশি টাকায়। লক্ষ্য একটাই, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা।

শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে যেভাবে তিনি নিজেকে সবার ওপরে তুলে ধরলেন, সেটা তার দলের মানসিকতারই প্রতিফলন। “খবরদার, আমি শাহজাহান চৌধুরী, যারা চেনে না তারা মাটির নিচে বাস করে” এই ধরনের কথা বলে তিনি নিজেকে কী ভাবছেন? কোনো রাজা-বাদশা? নাকি আল্লাহর বিশেষ প্রতিনিধি? মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন, প্রশাসনকে “আন্ডারে” আনার কথা বলছেন, পুলিশকে পেছনে পেছনে হাঁটাতে চাইছেন। এটা কি গণতন্ত্রের ভাষা? এটা কি ইসলামের শিক্ষা? নাকি এটা একটা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ?

জামায়াত সবসময় ধর্মের লেবাস পরে রাজনীতি করেছে। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের পক্ষে টেনে এনেছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবচেয়ে বড় মুনাফেক। ইসলাম যেখানে বিনয়, সহনশীলতা আর মানবিকতার শিক্ষা দেয়, জামায়াত সেখানে অহংকার, সহিংসতা আর ক্ষমতালোভের রাজনীতি করে। ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা, এটাই জামায়াতের আসল পরিচয়।

শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন তিনি ১৮ বছরে ৯ বছর জেল খেটেছেন। কিন্তু কেন জেল খেটেছেন সেটা তো বলেননি। যুদ্ধাপরাধ, দেশদ্রোহিতা, সহিংসতা উসকে দেওয়া, এসব কারণেই তো জামায়াত নেতারা জেলে যান। এটা নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। বরং লজ্জিত হওয়ার বিষয়। তিনি আরও বলেছেন দুইবার এমপি হয়েছেন, কোনোদিন এক কড়া জমি নেননি। এটা তো তার কর্তব্য ছিল। এটা নিয়ে বড়াই করার কী আছে? একজন জনপ্রতিনিধির তো জনগণের সেবা করাই মূল দায়িত্ব, নিজের পকেট ভরা নয়।

এখন দেশের অবস্থা দেখুন। একটা অবৈধ সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, যাদের কোনো গণভিত্তি নেই, কোনো নৈতিক অধিকার নেই। এই সরকারের পেছনে আছে জামায়াতের মতো যুদ্ধাপরাধী সংগঠন, আছে বিদেশি মদদ, আছে সামরিক সহায়তা। গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। যারা সত্য কথা বলতে চায়, তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে শাহজাহান চৌধুরীর মতো লোকেরা নিজেদের নবীর সমান ভাবতে শুরু করেছেন। আল্লাহ এদের হেদায়েত দিন।

জামায়াত যদি সত্যিই ইসলামের সেবা করতে চাইত, তাহলে এভাবে ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে থাকত না। সহিংসতার পথ বেছে নিত না। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করত না। ইসলাম শান্তির ধর্ম, কিন্তু জামায়াত শান্তির শত্রু। এরা ধর্মের নামে যা করছে, তা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। এদের আসল চেহারা এখন সবার সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে। শাহজাহান চৌধুরীর এই বেহায়া বক্তব্য তারই প্রমাণ।

ইতিহাস সাক্ষী, যারাই ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতেরও একই পরিণতি হবে। আর শাহজাহান চৌধুরীর মতো অহংকারীদের মনে রাখা উচিত, আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না। নিজেকে নবীর মর্যাদায় তুলনা করা চরম গোনাহের কাজ। এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত, মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু জামায়াতের কাছে এসব প্রত্যাশা করা বৃথা। কারণ এরা তো মুনাফেক, এদের কাছে ক্ষমতাই সবচেয়ে বড়, ধর্ম শুধুই একটা মুখোশ।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত