Share
মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে একটি সিংহী খাঁচা ভেঙে বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনো এলেবেলে দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ইউনুস সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতীক। যে সরকার জুলাই মাসে রক্তাক্ত দাঙ্গার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের অধীনে এখন মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে নতুন মাত্রায়। প্রথমে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে ইসলামিক জঙ্গি আর সন্ত্রাসীরা, এখন খাঁচা থেকে বের হয়ে গেছে হিংস্র সিংহী। এই দুটি ঘটনার মধ্যে মিল একটাই, ইউনুস সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।
জুলাই মাসে যখন সারাদেশে পরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল এটি গণআন্দোলন। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিদেশি অর্থায়নে, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থনে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে ড. ইউনুসকে। সুদের ব্যবসা করে যে মানুষ সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছিল, সেই মানুষই এখন পুরো দেশের ঘাড়ে চেপে বসেছে।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কাজই ছিল জেল থেকে জঙ্গি আর সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দেওয়া। যারা বোমা মেরেছে, মানুষ হত্যা করেছে, ধর্মের নামে সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাদেরকে মুক্তি দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই একই অবস্থা হয়েছে চিড়িয়াখানায়। একটি হিংস্র সিংহী খাঁচা থেকে বের হয়ে গেছে, আর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছে না। যেখানে জনগণ দর্শনার্থী হিসেবে ছিল, সেখানেই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলো। ভাগ্য ভালো যে তখন চিড়িয়াখানা বন্ধের সময় ছিল, নাহলে কী ঘটত তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।
প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি সিংহী খাঁচা থেকে বের হয়ে যায়? চিড়িয়াখানা পরিচালক নিজেই বলেছেন তদন্ত করে দেখতে হবে কীভাবে এটা ঘটল। কিন্তু এই তদন্তের কী ফল হবে? যে সরকার জুলাইয়ের গণহত্যার তদন্ত করছে না, বরং হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করছে, সেই সরকার চিড়িয়াখানার অব্যবস্থার তদন্ত করে কী করবে? বাস্তবতা হলো দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন অবহেলায় পড়ে আছে। চিড়িয়াখানার খাঁচা জরাজীর্ণ হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই, কর্মীদের প্রশিক্ষণ নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এসব নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? সরকারের সব মনোযোগ তো ক্ষমতা টিকিয়ে রাখায়, বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করায়।
মিরপুর চিড়িয়াখানা ঢাকার একমাত্র চিড়িয়াখানা, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসেন। শিশুরা আসে প্রাণীদের দেখতে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু এখন সেখানে নিরাপত্তা নেই। একটি সিংহী যদি খাঁচা থেকে বের হয়ে যেতে পারে, তাহলে অন্য বন্য প্রাণীরাও বের হতে পারে। বাঘ, ভালুক, চিতাবাঘ, সবগুলোই তো হিংস্র প্রাণী। কাল যদি এদের কেউ বের হয়ে যায় এবং কোনো শিশু বা পরিবারের ওপর হামলা করে, তখন কে দায় নেবে? ইউনুস সাহেব কি তখন আসবেন ক্ষমা চাইতে? না, তিনি তখনও বলবেন এটা আগের সরকারের দোষ, পুরোনো ব্যবস্থার ত্রুটি।
আসল সত্য হলো ইউনুস সরকার একটি অবৈধ সরকার। এই সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই, কোনো ম্যান্ডেট নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে কীভাবে? যে সরকার জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়, সেই সরকার চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ঘামাবে কেন? জনগণের নিরাপত্তা, জনগণের জীবন, এসব তো তাদের কাছে মূল্যহীন।
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা এখন সিংহীকে অজ্ঞান করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এত সময় লাগছে কেন? কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই, প্রশিক্ষণ নেই, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার কোনো পরিকল্পনা নেই। এই অব্যবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি, কিন্তু ইউনুস সরকারের আমলে এটি আরও খারাপ হয়েছে। যখন দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, যখন যোগ্য কর্মকর্তাদের সরিয়ে অযোগ্যদের বসানো হচ্ছে, তখন এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবেই।
এই ঘটনার পর কী হবে? হয়তো কিছু দিন আলোচনা হবে, কিছু তদন্ত কমিটি বসবে, তারপর সব চাপা পড়ে যাবে। কিন্তু সত্যি কথা হলো এই ঘটনা একটি সতর্ক সংকেত। যে দেশে জঙ্গিরা খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যে দেশে চিড়িয়াখানার সিংহী পালিয়ে যাচ্ছে, সেই দেশে সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়। ইউনুস সরকারের অধীনে এই দেশ প্রতিদিন আরও অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আর এই অনিরাপত্তার মূল কারণ হলো একটি অবৈধ, অগণতান্ত্রিক সরকার যার কোনো দায়বদ্ধতা নেই জনগণের কাছে।
মিরপুর চিড়িয়াখানার সিংহী হয়তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধরা পড়বে। কিন্তু যে সিংহীরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এখন সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মানুষের নামে জঙ্গি আর সন্ত্রাসীরা, তাদের ধরবে কে? যারা জুলাইয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে কবে? এই প্রশ্নের উত্তর ইউনুস সরকারের কাছে নেই। কারণ তারা নিজেরাই সেই অপরাধীদের একজন। তারা নিজেরাই একটি কু’য়ের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। চিড়িয়াখানার সিংহী পালিয়ে গেলেও তাদের ঘুম হারাম হয় না, কারণ তাদের মাথায় শুধু একটাই চিন্তা, কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।
আরো পড়ুন

