জামায়াত–মোসাদ: ছায়া জোটের অন্ধকার কারসাজি

Share

নাম আলাদা, খেলাটা এক। জামায়াতে ইসলামী যে শুধু ধর্মের রাজনীতি করে তা আর নয়—এখন তারা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ছায়া-লবিস্টদের সঙ্গে একই ফ্রেমে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যায়, খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে কৃষ্ণ নন্দী নামের এক ব্যক্তিকে, যার পেছনে জড়িয়ে আছে মেন্দি এন সাফাদি ও শিপন কুমার বসু—দুজনেই মোসাদ-লিঙ্কড বিতর্কিত চরিত্র।

মেন্দি এন সাফাদি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহকারী, আইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত। তার প্রতিষ্ঠান সাফাদি সেন্টার মুসলিম দেশগুলোতে ইসরায়েলের পক্ষে জনমত গড়ার কাজ করে। ২০১৬ সালে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে তার গোপন বৈঠক, ২০২৩ সালে নুরুল হক নুরের সঙ্গে ছবি—এখন আবার জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে যোগ। বাংলাদেশের মাটিতে তার এত আগ্রহ কেন?

শিপন কুমার বসু নিজেই স্বীকার করেছে, সাফাদির নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে। তবু সে বছরের পর বছর “সাফাদির মুখপাত্র” পরিচয়ে বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক চালিয়েছে। ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল কমিটির নামে ইসরায়েলি লবিং, পশ্চিমবঙ্গে এসএসসি কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত—এমন একজনের সঙ্গে জামায়াতের খুলনা-১ প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর ঘনিষ্ঠ ছবিতে। এ শুধু বন্ধুত্ব নয়, স্পষ্ট রাজনৈতিক লেনদেন।

কৃষ্ণ নন্দীকে জামায়াত কেন প্রার্থী করল? ২০১৩ থেকে ২০২৩—মাত্র দশ বছরে ২২ বার ভারত সফর, কোনো চিকিৎসা বা ব্যবসার কাগজ নেই। ২০২৫ সালে হঠাৎ তুরস্ক যাত্রা। খুলনায় তার নামে উচ্চসুদের ঋণের ব্যবসা, স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত। রাজনৈতিক কোনো ভূমিকা নেই, তবু জামায়াত তাকেই দাঁড় করাল। কারণ একটাই—সে বিদেশি লবির সঙ্গে যুক্ত সেতুবন্ধ।

জামায়াতে ইসলামী আর ধর্মীয় দল নেই। এটা এখন বহিরাগত শক্তির প্রক্সি প্ল্যাটফর্ম। মুখে আল্লাহু আকবার, পেছনে মোসাদ-লিঙ্কড লবিস্টদের সঙ্গে হাত মেলানো। ১৯৭১-এ পাকিস্তানের দালাল, ২০২৫-এ ইসরায়েলি এজেন্টদের দরজা খুলে দেওয়া—একই সংগঠনের ভিন্ন মুখ।

খুলনা-১ এর নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। জামায়াতের এই ছায়া জোটকে প্রশ্নবিদ্ধ না করলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। জেগে ওঠার এখনই সময়।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত