Share
রাজধানীর বিজয়নগরে শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদী। তিনি এখন কোমায়। কিন্তু তার রক্ত শুকানোর আগেই শুরু হয়ে গেল জামায়াত-শিবিরের সেই পুরনো খেলা– লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক লুটপাট।
হামলার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জামায়াতের কুখ্যাত ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রথম পোস্টে লেখেন- “ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
একটি শব্দও হাদীর জন্য দোয়া বা সহানুভূতি নেই। শুধু উসকানি আর ‘অভ্যুত্থানের’ হুমকি। তারপর ঘণ্টা দুয়েক পর এল দ্বিতীয় পোস্ট। এবার সরাসরি দোষ চাপিয়ে দেওয়া হলো বিএনপির ওপর। তিনি লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে একজন প্রার্থীকে গুলি করা হলো। পতিত ফ্যাসিস্টরা এই নির্বাচন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নানা কর্মসূচি ও হুমকি দিয়েছে। ফ্যাসিস্টদের দেশি-বিদেশি দোসররাও আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিতে চায় না।”
অর্থাৎ স্পষ্ট বার্তা – গুলি করেছে “পতিত ফ্যাসিস্ট” অর্থাৎ বিএনপি ও তার “দেশি-বিদেশি দোসর”। নেটিজেনরা এই দুটি পোস্টকে এক কথায় বলছেন, “লাশ গরম থাকতে থাকতেই দোষ চাপিয়ে দেওয়ার নোংরা খেলা।”
গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্র বলছে, পুরো ঘটনাটির পেছনে আসলে জামায়াতেরই হাত। ঢাকা-৮ আসনটি ঢাকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র – বছরে ৪৫০ থেকে ৫৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য। এই আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এবার জামায়াত চায় পুরোপুরি দখল নিতে। আর সেই দখলের জন্য মনোনীত প্রার্থী সাদিক কায়েম নিজেই।
জামায়াতের পরিকল্পনা ছিল দুই ধরনের। প্রথমে হাদীকে সরিয়ে দেওয়া। তারপর তার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি গুলি করেছে বলে সিম্প্যাথি ভোট লুট করা। হামলার আগের রাতেই গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে সাদিক কায়েমের সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার গোপন বৈঠক হয়েছিল – এ তথ্যও এখন সামনে আসছে।
এদিকে ডা. মোশকাত আহমেদ, ঢামেকের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, “ওসমান হাদী এখন কোমায়। মাথায় গুলি লেগেছে। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”
আরো পড়ুন

