Share
ফ্রান্সে রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক পিনাকি ভট্টাচার্য্য বাংলাদেশের সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে সহিংসতা উস্কানি দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লেখক, শিল্পী ও মানবাধিকার কর্মী জান্নাতুন নাঈম প্রীতি এই অভিযোগ ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছেন, যাতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পিনাকি ভট্টাচার্য্য, যিনি ফ্রান্সে বসে ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়, প্রকাশ্যে লাইভ সম্প্রচার ও পোস্টের মাধ্যমে উগ্র গ্রুপগুলোকে বাংলাদেশের প্রধান মিডিয়া হাউসগুলোতে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো দৈনিকের অফিসকে লক্ষ্য করে এই উস্কানি দেওয়া হয়েছে। এসব হামলার সময় অফিসে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকায় তাদের জীবন ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
জান্নাতুন নাঈম প্রীতি বলেন, “ফ্রান্সের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও তা কখনো সহিংসতা উস্কানি বা অন্য দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হাতিয়ার হতে পারে না। পিনাকির এই কার্যক্রম ফরাসি আইনের আওতায় সহিংসতা প্ররোচনা বা সন্ত্রাসী প্রোপাগান্ডা হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।”
অভিযোগে তিনটি মূল প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে:
- পিনাকি ভট্টাচার্য্যের এই কার্যকলাপ কি ফরাসি আইনে সহিংসতা উস্কানি বা সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘন?
- ফ্রান্সের ভূখণ্ড বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কি বিদেশে সহিংস কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে?
- শরণার্থী হিসেবে থেকে এ ধরনের কার্যক্রম কি আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব লঙ্ঘন?
পিনাকি ভট্টাচার্য্যের অতীত কার্যক্রমও বিতর্কিত। তিনি বাংলাদেশে নকল ওষুধ (যেমন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ইয়াবা) উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। ফ্রান্সে আশ্রয় নেওয়ার পর তিনি অ্যান্টি-ইন্ডিয়া প্রোপাগান্ডা, হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য এবং উগ্র ইসলামি গ্রুপের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি তিনি কোকা-কোলা প্ল্যান্টে হামলার উস্কানি দিয়েছেন এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন, যা জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। এছাড়া তিনি আইএসকনের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পিনাকির এই কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তিকেও হুমকি দিচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের উচিত এই অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে স্বাধীন মতপ্রকাশের নামে সহিংসতার উস্কানি বন্ধ হয়।
প্রীতি আরও বলেন, “আমি বিচারবহির্ভূত কোনো ব্যবস্থা চাই না, শুধু আইনি তদন্ত চাই। স্বাধীন মতপ্রকাশ যেন কখনো ভয় বা ধ্বংসের হাতিয়ার না হয়।”
এই ঘটনা সাংবাদিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় সতর্কতা। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
আরো পড়ুন

