Share
দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যা করেছে সরকারপন্থি সন্ত্রাসীরা। র্যাব বলছে ‘অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের বীভৎসতম মব সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তিকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করে তার লাশ পুড়িয়ে দেয় ইউনুসপন্থী একদল জঙ্গি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ফ্যাক্টরির ভেতরেই কিছু শ্রমিক দলবদ্ধ হয়ে দিপু চন্দ্র দাসকে মারধর শুরু করেন।
এ সময় তারা তার বিরুদ্ধে ‘নবীকে কটূক্তি করার’ অভিযোগ করতে থাকেন। তখন মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে যে ‘দিপু চন্দ্র দাস চায়ের দোকানে বসে এমন মন্তব্য করেছেন’। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ফ্যাক্টরির প্রডাকশন ম্যানেজার দিপু চন্দ্র দাসকে তখনি বরখাস্ত করেন। ‘ধর্ম রক্ষা’ জজবায় উত্তেজিত হয়ে উচ্ছৃংখল মব বাইরে আরো লোক জড়ো করে যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ইউনুসপন্থী জঙ্গি, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদ দখল করা, লুটপাট করা, হত্যা-হামলা-ভাংচুরে সর্বদা উৎসাহী।
ঘটনার পর র্যাব জানায় ধর্ম অবমাননার কোন প্রমাণ তারা পায়নি। উপস্থিত সাক্ষ্যপ্রমান অনুযায়ী কেউ নিজে দিপু চন্দ্রের মুখে ধর্ম অবমাননার কোন কথা শুনে নি। সবাই অন্যের মুখে শুনেছিল তিনি নাকি নবীকে কটুক্তি করেছেন।
এই ঘটনা গত ১৫ মাসে নতুন কোন ঘটনা নয়। ধর্মের দোহাই দিয়ে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অবৈধ ইউনুস সরকার জেলে বন্দি থাকা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধানসহ সকল জঙ্গি নেতাকে বিনাশর্তে মুক্তি দিয়েছে, যারা গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাই বাংলাদেশের মানুষের ধর্মভীরু মানসিকতাকে পুঁজি করে দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মুছে দিতে জোর প্রয়াস চালাচ্ছে।
যার আরেকটি প্রমাণ হলো একই দিনে অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বরে রাজধানীর ছায়ানট ভবনে ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে হামলা। মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় বাদ্যযন্ত্র, স্থাপনা তো নষ্ট হয়েছেই, সেই সাথে ধ্বংস হয়েছে অর্ধশতাব্দীর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস। এসব ঘটনায় কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ অনলাইনে থাকলেও জঙ্গিনেতা ইউনুসের ভাঁড় মস্তফা সারোয়ার ফারুকি কাউকে খুজে পাচ্ছেন না। তারা শুধু ক্ষতিপুরনের আশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন।
আরো পড়ুন

