Share
ইসলামী শাসন কায়েমের কথা বলে ভোট চাইছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন—এমনকি নারী সংগঠনও। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই “ইসলামী শাসন” আসলে কী, এবং এর বাস্তব রূপ কেমন হবে?
ইতিহাস আমাদের বারবার সতর্ক করেছে—ইসলামের নামে রাজনীতি করলেই ন্যায়বিচার, মানবিকতা বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইসলামী শাসনের স্লোগান সামনে রেখে বহু দল ও গোষ্ঠী ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবে তা রূপ নিয়েছে সংকীর্ণতা, দমননীতি ও উগ্রবাদী চিন্তাধারায়।
জামায়াতে ইসলামী বারবার ইসলামী শাসনের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক অতীত প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা, পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধিতা এবং বিভিন্ন সময় উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আদর্শিক সাযুজ্যের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘোষিত লক্ষ্য ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে গভীর ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইসলামী শাসনের নামে যে রাজনীতি প্রচার করা হচ্ছে, তা আদতে একটি কঠোর মতাদর্শিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা—যেখানে ভিন্নমত, নারীর স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। নারী সংগঠনের মাধ্যমে ভোট চাওয়াও সেই কৌশলেরই অংশ—যেখানে নারীর অধিকারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে, নারীকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসে।
বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্র—মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত। এই রাষ্ট্রে ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাসে, আর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে সংবিধান, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে। এই মৌলিক চেতনার সঙ্গে উগ্র মতাদর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থার কোনো সামঞ্জস্য নেই।
আজ তাই প্রশ্ন উঠছে— ইসলামী শাসনের নামে কি দেশকে আবার মৌলবাদী শাসনের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? নাকি জনগণ এবার সজাগ হয়ে বুঝবে—ধর্মীয় স্লোগান আর রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা এক বিষয় নয়?
আরও উদ্বেগজনক হলো—সাম্প্রতিক সময়ে মব সৃষ্টি, সহিংস ভাষ্য এবং ‘তৌহিদি জনতা’সহ বিভিন্ন নামে সংঘবদ্ধ তৎপরতায় যাদের দেখা যাচ্ছে, তারা জামায়াতপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত। সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও জঙ্গিবাদী উত্থানের প্রতি নীরব সহানুভূতি কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো রাজনৈতিক সচেতনতা। ভোট মানে শুধু বিশ্বাসের প্রকাশ নয়—এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা।
বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্র চাই, নাকি ধর্মের নামে সংকীর্ণ ও বিভাজনমূলক রাজনীতিকে মেনে নেব?
আরো পড়ুন

