মবকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলা রাষ্ট্রীয় অপরাধ,প্রেস সচিবের গ্রেফতার দাবি

Share

মব বাহিনীর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দেশজুড়ে যখন আতঙ্ক, তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শকিকের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। জঙ্গী সন্ত্রাস, খুন, ভাঙচুর ও বিচারবহির্ভূত সহিংসতায় জড়িত একটি সংগঠিত মব বাহিনীকে তিনি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে উপস্থাপন করে কার্যত সহিংসতাকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার আড়ালে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্রের একজন মুখপাত্রের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, এটি সরাসরি আইনশাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।

প্রেস সচিবের ভাষা ব্যক্তিগত মতামত নয়; এটি রাষ্ট্রীয় অবস্থানের প্রতিফলন। ফলে এই বক্তব্য মব সন্ত্রাসীদের জন্য নীরব বার্তা হয়ে দাঁড়ায় যে, অপরাধ করলেও রাষ্ট্র কঠোর হবে না। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ভাষার এই বিকৃতি সন্ত্রাসকে স্বাভাবিক করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি করছে।

একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে যে, মব বাহিনী পরিচালিত প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রেস সচিব শকিকের ভূমিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎসাহদানের পর্যায়ে পড়ে। তাই তারা প্রতিটি মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করার দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনৈতিক ভাষা নিজেই একটি অপরাধ, যার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আজ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন স্পষ্ট—রাষ্ট্র কার পক্ষে দাঁড়িয়েছে? নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে, নাকি মব বাহিনীর সন্ত্রাসী তৎপরতা রক্ষার পক্ষে? একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র যখন খুনী মব বাহিনীর পক্ষে ব্যাখ্যা দাঁড় করান, তখন তাঁর পদে থাকা নিজেই রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রেস সচিব শকিকের গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন কেবল রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা কোনোভাবেই দায়মুক্তির ঢাল হতে পারে না। মবকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলা রাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের নামান্তর, আর সেই আত্মসমর্পণ বন্ধ করতেই আজ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত