Sunday, March 15, 2026

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ইউনূস!

Share

রাজধানী ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিন পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদি। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গুরুতর অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। ওসমান হাদির ভাই শরীফ ওমর হাদি সরাসরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে আঙুল তুলেছেন। তার দাবি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করতেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ মঙ্গলবার শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে শরীফ ওমর হাদি বলেন, “আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন এবং এখন এই ইস্যু ব্যবহার করে নির্বাচন নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন।” তিনি জানান, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বিচার নিশ্চিত না হলে এই সরকারকে একদিন দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত থাকলেও ড. ইউনূস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওসমান হাদিকে হত্যার মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে জামায়াত। সূত্র মতে, গত মাসের শেষের দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে সালমান ওসমান হাদির সাথে তার ঘাতকের পরিচয় করিয়ে দেন। ওসমান হাদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, ওই ব্যক্তি তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে সহযোগিতা করবে।

গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, হামলাকারী শ্যুটারের সঙ্গে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জামায়াত-ঘনিষ্ঠ নেতা আবু সাদিক কায়েমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। হামলার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মাথায় সাদিক কায়েম ফেসবুকে হাদির সুস্থতা কামনা না করে সরাসরি ‘অভ্যুত্থান’-এর ডাক দেন, যা গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-৮ আসনের বাৎসরিক প্রায় ৫০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির বাজার নিয়ন্ত্রণে নিতেই ওসমান হাদিকে সরিয়ে সাদিক কায়েমকে সেখানে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে জামায়াত।

আইএসআই সংযোগ ও মার্কিন নীলনকশা ঘটনাপ্রবাহে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, ওসমান হাদি মূলত পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্ট ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের শীর্ষ নেতা ছিলেন। তার নির্বাচন কেন্দ্রিক অর্থায়নও করেছিল জামায়াত নেতা ড. মাসুদ। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন নির্দেশেই জামায়াত তাদের এই এজেন্টকে হত্যা করেছে যাতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। হাদির মৃত্যুর পর দুটি সংবাদমাধ্যমে আগুন দেওয়া হলেও সেনাবাহিনী বা জাতিসংঘ কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। উল্টো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশজুড়ে চলা এই মব বা ধ্বংসযজ্ঞে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেন বাংলাদেশে ভোট চায় না আমেরিকা? বিশেষজ্ঞদের মতে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক নীলনকশার অংশ। আমেরিকা চায় বাংলাদেশ যেন তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) অনুসারী হয়ে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান নিতে মরিয়া।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি ‘খ্রিস্টান রাজ্য’ গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সতর্ক করেছিলেন যে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠন এবং বাংলাদেশে মার্কিন এয়ার বেজ স্থাপনের প্রস্তাব এসেছিল।

একাধিক সূত্রের দাবি, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে ‘প্রক্সি নেতা’ হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। তাকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রলোভন দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হরণ এবং নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই মুহূর্তে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা চিরতরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত