Share
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ছবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই দৃশ্যটি কোনো বাস্তব আলোকচিত্র নয়, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা একটি সম্পাদিত ছবি।
এই ছবিটিতে বেশ কিছু দৃশ্যমান অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। তারেক রহমানের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ছবিগুলোর সাথে এই ভাইরাল ছবির চেহারার স্পষ্ট অমিল রয়েছে। বিশেষ করে তার চুলের স্টাইল এবং ঠোঁটের ওপরের পরিচিত তিলটি এই ছবিতে অনুপস্থিত। এছাড়া ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘UnDetectable AI’-এর মতো উন্নত টুল ব্যবহার করা হলে সেটি ছবিটিকে ৯৭ শতাংশ এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত করে।
মূলত গত ৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার একটি ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ফ্রেম সংগ্রহ করে সেখানে এআই-এর মাধ্যমে তারেক রহমানের অবয়ব জুড়ে দিয়ে এই ভুয়া দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছে। বেগম জিয়ার গলার কাছে থাকা মাইক্রোফোনটি সেই ভিডিওরই অংশ ছিল, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশে থাকার কথা নয়।
আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও ছাড়লেও তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও তিনি প্রকাশ করেননি। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, আরও প্রায় ১৫ দিন আগেই খালেদা জিয়া মারা গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভুয়া ছবি প্রচারের পেছনে গভীর কৌশল ও উদ্দেশ্য কাজ করে থাকে। দীর্ঘ সময় মা ও ছেলেকে একত্রে না দেখার কারণে সমর্থকদের মধ্যে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তাকে পুঁজি করে দ্রুত জনসমর্থন বা সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা হতে পারে এটি।
এছাড়া তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দীপনা বাড়ানো কিংবা তারেক রহমান দেশে ফিরে এসেছেন—এমন কোনো ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে প্রতিপক্ষ বা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে সব কিছু মিলিয়ে অনুসন্ধানে এটি প্রমাণিত যে, এই ছবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ডিজিটাল কারসাজির একটি অপচেষ্টা মাত্র।
আরো পড়ুন

