Share
ঢাকা মহানগরের ২০টি নির্বাচনী আসনের প্রত্যেকটিতে প্রায় এক লাখ করে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিযোগ উঠেছে, এটি কোনো স্বাভাবিক ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া নয়; বরং পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করার একটি সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু আসনে একযোগে বিপুল সংখ্যক ভোটার সংযোজন কাকতালীয় হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে জামায়াতে ইসলামীর একটি সংগঠিত ‘মেকানিজম’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ভোটের সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে আনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ঠিকানা যাচাই, স্থায়ী বসবাস নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এর ফলে ভুয়া কিংবা স্থানান্তরিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি ভোট কারচুপির পথ সুগম করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব ছিল নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসরে অস্বাভাবিক হারে ভোটার সংযোজন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি নির্বাচনের ফলাফল নয়—পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যই মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে সন্দেহ আরও গভীর হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকার ২০টি আসনে ২০ লাখ নতুন ভোটার সংযোজন—এটি আর নিছক পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এটি পক্ষপাত, প্রভাব বিস্তার এবং ভোট কারচুপির আশঙ্কার একটি বড় সতর্ক সংকেত, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আরো পড়ুন

