Share
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের সংগ্রামের পর অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু সেই সংগ্রামের মূল্যায়ন না করে, স্বাধীনতার মূল চেতনাকে অবমূল্যায়ন করে যারা কাজ করছে, তারা আজ স্বাধীনতা বিরোধী চক্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক মাসের ষড়যন্ত্রে নির্বাচিত সরকার পতন করায় তারা দেশের জন্য কোনো স্থায়ী অবদান রাখতে পারেনি। ইতিহাস তাদের কর্মকাণ্ডের বিচারের রায় ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করেছে।
দেশের বর্তমান অস্থিরতার মূল দায়ী হলো কিছু বিশ্বাসঘাতক সেনা কর্মকর্তা। নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে তারা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতাকে তারা অঙ্গভঙ্গ করেছে এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সরকারের নয়, সমগ্র জাতির আস্থা ধ্বংস করেছে। ইতিহাস কখনো এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ভুলবে না।
স্বাধীনতা শুধু অর্জন নয় এটি রক্ষারও প্রতিশ্রুতি দাবি করে। যারা দেশের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করেছে, তারা জাতির বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করেছে। এই বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য আজ আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, এবং জনগণের হতাশা সবই সেই ভুলের ফল।
আজ আমাদের করণীয় স্পষ্ট এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। নাগরিক, রাজনৈতিক দল, এবং সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। যারা জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের আত্মার সম্মান রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।
বিশ্বাসঘাতকতা কখনো সফল হয় না। ইতিহাস সর্বদা সত্যের পাশে থাকে। দেশের বর্তমান সংকট এই সত্যকে আরও শক্তভাবে প্রমাণ করেছে। এখন সময় এসেছে সুসংহত, সচেতন, এবং গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়ার যাতে স্বাধীনতার অর্জন চিরস্থায়ী হয় এবং পুনরায় বিশ্বাসঘাতকতা দেশের গণতন্ত্রকে বিষ্ঠা দিতে না পারে।
আরো পড়ুন

