Friday, January 30, 2026

বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারকে গুরুত্বহীন মনে করে ভারত

Share

ভারতের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশের অনির্বাচিত বা অস্থায়ী সরকারকে ভারত গুরুত্ব দেয় না দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এটি নিছক কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক মন্তব্য নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য, গণতন্ত্রের প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে “স্থিতিশীল ও নির্বাচিত সরকার”-কেই সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অনির্বাচিত বা অস্থায়ী সরকারের প্রতি ভারতের অনাগ্রহ কৌশলগতভাবে অস্বাভাবিক নয়। দিল্লি ভালোভাবেই জানে, অস্থায়ী সরকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি, নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ এবং প্রায়ই অভ্যন্তরীণ বৈধতার সংকটে ভোগে। এমন সরকারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, বাণিজ্য কিংবা অবকাঠামো সংক্রান্ত চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও গভীর। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও ট্রানজিট সবকিছুই এই সম্পর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে অনির্বাচিত সরকারকে গুরুত্ব না দেওয়ার ভারতের ঘোষণা ঢাকার জন্য একটি পরিষ্কার সংকেত বহন করে রাজনৈতিক বৈধতা দুর্বল হলে আঞ্চলিক আস্থাও টেকসই হয় না।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় আসে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ক্ষমতার শূন্যতার সুযোগ নিয়ে। অনির্বাচিত বা দুর্বল সরকারগুলো অনেক সময় বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে। ভারতের এই বক্তব্য সেই প্রবণতার বিপরীতমুখী একটি কৌশলগত অবস্থানও নির্দেশ করে দিল্লি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তারা স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বৈধ অংশীদারের সঙ্গেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি তাই দ্বিমুখী। একদিকে এটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের বাস্তব শর্তও স্পষ্ট করে তোলে। শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়, জনগণের ম্যান্ডেট ও রাজনৈতিক বৈধতাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি এই সত্য আবারও সামনে আসে।

ভারতের সেনাপ্রধানের মন্তব্য কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন উচ্চারণ নয় এটি সময়ের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে দেওয়া এক সুস্পষ্ট কূটনৈতিক ইঙ্গিত। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় এই বার্তাকে উপেক্ষা করার সুযোগ সীমিত। গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও বৈধতার সমন্বয়ই কেবল একটি রাষ্ট্রকে শক্ত, সম্মানজনক ও বিশ্বাসযোগ্য আঞ্চলিক অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত