Share
বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন একটা কাজ করেছিলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বৈধ কাজের জন্য ড্রেজার বসিয়েছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দিয়ে। এই কারণে চারজন লোক মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়, নিয়ে যায় বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে। সেখানে ঘণ্টাখানেক ধরে ছয়-সাতজন মিলে কিল-ঘুষি চালায়, আর নেতা নিজে দাঁত বসিয়ে দেন মানুষটার কানে, রক্তাক্ত করে ছাড়েন। কারণ একটাই, ড্রেজার বসানোর আগে তাকে জানানো হয়নি, চাঁদা দেয়া হয়নি।
জানানো হয়নি মানে কী? মানে নদীর পাড়ে কে ব্যবসা করবে, কে করবে না, এই সিদ্ধান্ত এখন প্রশাসন নেয় না, নেয় স্থানীয় বিএনপি নেতা। চাঁদা না দিলে কান কেটে নেওয়া হবে, এইটাই এখন নিয়ম। রাষ্ট্রের জায়গায় একজন যুগ্ম সম্পাদক বসে গেছেন, আর তার এক্তিয়ার হলো মানুষকে অপহরণ করে নির্যাতনের।
সবচেয়ে নির্লজ্জ অংশটা ঘটনার পরে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত নেতা বলেন, সকালে প্রোগ্রাম আছে, তিনি এখন ঘুমাতে যাচ্ছেন, পরে ভিডিও বার্তায় জানাবেন। একটা মানুষের কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলার কয়েক ঘণ্টা পরও তার ব্যস্ততা হলো পরদিনের প্রোগ্রাম, ভয় নয়, ঘাবড়ানো নয়, স্বাভাবিক ঘুম। এই আত্মবিশ্বাসটা কোথা থেকে আসে? আসে এই বিশ্বাস থেকে যে দল ক্ষমতায় আছে, তাই পার পাওয়া যাবে।
আর পুলিশ কী করল? ওসি শুধু বললেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, মামলা হয়েছে কি না, তার কোনো উল্লেখ নেই। ভুক্তভোগী নিজে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন স্থানীয় মানুষের সাহায্যে, প্রশাসনের সাহায্যে নয়। এইটাই এখনকার বাস্তবতা, ক্ষমতাসীন দলের নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অভিযোগ থাকলেও প্রথম পদক্ষেপ হয় লোক দেখানো, গ্রেপ্তার নয়।
২০০১-০৬ এর সঙ্গে এখনকার তফাত কোথায়? তখনও স্থানীয় নেতারা এলাকা নিজের সম্পত্তি মনে করতেন, এখনও করেন। তখনও প্রশাসন নীরব দর্শক ছিল, এখনও আছে।
আরো পড়ুন

