সোনার বাংলা থেকে ল্যাবেন্ডিস বাংলা: বাংলাদেশী পাসপোর্টের স্মরণকালের সর্বোচ্চ অবনতি

Share

বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন বিশ্বের কাছে ‘সন্দেহের প্রতীক’—এই কথাটি বলতে গেলে অতিরঞ্জন হবে না। একসময় বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা ছিল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজে ভ্রমণের সুযোগ ছিল, কিন্তু আজ সেই পাসপোর্টের মূল্যই যেন হারিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন অফিসারদের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট এখন ‘অপকর্মের সম্ভাবনা’র প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কারা? কে এই দেশের ভাবমূর্তিকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যে, বিশ্বের দরজা একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?

গত এক বছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামাজিক অস্থিরতা, এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই দাঙ্গা—যা বিদেশি রাষ্ট্রের টাকা, ইসলামিক উগ্রবাদী সংগঠনের সহায়তা, এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত হয়েছে—দেশের ভাবমূর্তিকে এমনভাবে ধ্বংস করেছে, যা থেকে উত্তরণ সহজ নয়। এই দাঙ্গার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে, এবং সেই ক্ষমতায় বসেছেন সুদী মহাজন ইউনুস ও তার সহযোগী সেনাপ্রধান ওয়ার্কার। তাদের এই অবৈধ ক্ষমতা দখলের ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন বিশ্বের কাছে ‘অবিশ্বাসের’ অন্য নাম হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন অফিসাররা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, দুবাই, আবুধাবি, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ—এসব দেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, জিজ্ঞাসাবাদ, এবং অফলোডের ঘটনা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। থাইল্যান্ডের মতো পর্যটননির্ভর দেশ, যেখানে প্রতিবেশী ভারতীয়দের জন্য ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশিদের ভিসা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভিসা আবেদনের সময় একগাদা নথিপত্র জমা দিতে হচ্ছে, তবুও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা—এসব দেশের ইমিগ্রেশন অফিসাররা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের, যেন তারা অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের এই দুর্ভাগ্য পরিস্থিতির জন্য দায়ী সেইসব মানুষ, যারা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ধ্বংস করেছেন, যারা বিদেশি রাষ্ট্রের টাকা এবং উগ্রবাদী সংগঠনের সহায়তায় দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন বিশ্বের কাছে ‘দুর্বল’ এবং ‘অবিশ্বাস্য’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৪—যা এক বছর আগেও এমন ছিল না। এই অবনতি শুধু সংখ্যার নয়, দেশের ভাবমূর্তিরও।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত