Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
মিয়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিশেষ করে আরাকান আর্মিদের যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠছে স্টারলিংক। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য রয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সম্প্রতি একটি কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ডিভাইস জব্দ করেছে।
ড. ইউনূস, যিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাকে অনেকে মার্কিন প্রশাসনের ‘প্রক্সি নেতা’ হিসেবে দেখছেন। সূত্রমতে, ইউনূসের সরকার গোপনে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে স্টারলিংক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, যা চীন-বিরোধী শক্তিগুলোকে শক্তিশালী করবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্রোহীরা চীন-সমর্থিত প্রকল্পগুলোতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পসহ চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পদক্ষেপকে চীন-বিরোধী বলে অভিহিত করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস চীনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন সহযোগিতা করছেন, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের জান্তা দেশটির একটি প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩০টি স্টারলিংক রিসিভার জব্দ করেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ জানিয়েছে, অভিযানে প্রায় ২০০টি ভবন দখল নেওয়া হয়েছে এবং ২ হাজার ২০০ কর্মীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এএফপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এসব কেন্দ্রে স্টারলিংক ব্যবহার করে প্রতারণা চক্রগুলো স্থানীয় নেটওয়ার্ক এড়িয়ে দ্রুত স্থানান্তরিত হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে এসব চক্র ১৮-৩৭ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে, যা এখন স্টারলিংকের সহায়তায় আরও বেড়েছে।
ড. ইউনূসের ভূমিকা এখানে কেন্দ্রীয়, কারণ তার সরকারের অধীনে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে নৌঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অঞ্চল চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অংশ নিয়ে একটি ‘খ্রিস্টান রাজ্য’ গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে। ইউনূসকে জাতিসংঘের মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবহার করছে আমেরিকা। আমেরিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা এবং চীনের প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্টারলিংক এখন প্রতারণা চক্রের নতুন অস্ত্র হয়ে উঠেছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন ও পূর্ব তিমুরে ‘স্ক্যাম সিটি’ গড়ে উঠেছে, যেখানে রোমান্স স্ক্যাম, ক্রিপ্টো জালিয়াতি এবং মানব পাচার চলছে। ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশও এই স্যাটেলাইট কভারেজ অঞ্চলে পড়ায়, ভবিষ্যতে এখানকার প্রতারণা চক্রগুলো স্টারলিংক ব্যবহার করতে পারে, যা চীনকে আরও চাপে ফেলবে।
মিয়ানমারে স্টারলিংকের কোনো লাইসেন্স না থাকলেও, এপিএনআইসির তথ্য অনুসারে, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এটি দেশের শীর্ষ ইন্টারনেট সরবরাহকারী ছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, থাই-মিয়ানমার সীমান্তে ২৭টি প্রতারণা কেন্দ্রে নতুন নির্মাণ চলছে। ২০২১-এর অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জর্জরিত, এবং এখন সাইবার প্রতারণার ঘাঁটি। ইউনূসের চাল এই অস্থিরতাকে ব্যবহার করে চীনকে ‘শায়েস্তা’ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা বাড়ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা স্টারলিংকের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি কি শুধু প্রতারণা নিয়ন্ত্রণের জন্য, নাকি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক খেলার অংশ?
আরো পড়ুন

