Sunday, November 30, 2025

অভিযোগের পাহাড়, প্রতিক্রিয়ার শূন্যতা : বেরোবির নৈতিক সংকট আসলে রাষ্ট্রেরই প্রতিচ্ছবি

Share

এই মুহূর্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগের যে ঘটনা সামনে এসেছে, তা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং এটি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দুই শিক্ষক, দুই বিভাগ, দুই শিক্ষার্থী – একই দিনে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। এমন ঘটনা বারবার ঘটছে, অথচ প্রতিবারই প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া একই রকম: “নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই নীতিমালার কার্যকারিতা কোথায়? কেন বারবার একই ধরনের অভিযোগ উঠছে, কেন শিক্ষার্থীরা নিরাপদ বোধ করছে না?

এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের সমাজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তখনই আমরা দেখতে পাই এই রাষ্ট্রের শীর্ষে বসে থাকা অবৈধ ক্ষমতাধরদের নীরবতা। সুদী মহাজন ইউনুস, যিনি বিদেশী রাষ্ট্রের অর্থ, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের ছত্রছায়া এবং সামরিক বাহিনীর ছায়াসমর্থনে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছেন, তাঁর অ-সরকারের নৈতিক অবস্থান এইসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই শাসনব্যবস্থা নারী নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ, এবং ন্যায়ের প্রশ্নে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।

এই অ-সরকারের চরিত্রই এমন যে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকরা দিনের পর দিন ক্লাসে যান, পরীক্ষা নেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং অভিযোগের পরেও তাঁদের ফোন রিসিভ না করার মধ্য দিয়ে এক ধরনের ঔদ্ধত্যের প্রকাশ ঘটে। অথচ প্রশাসন বলছে, “সাত দিনের মধ্যে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এই বিলম্ব, এই গড়িমসি, এই অনিশ্চয়তা – সবই আসলে একটি ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামোর পরিচয়।

এই কাঠামো তৈরি হয়েছে সেই সময় থেকে, যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে একটি অস্বচ্ছ, অগণতান্ত্রিক, এবং বিদেশী স্বার্থে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত এই অ-সরকারের কাছে নারী অধিকার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, এবং ন্যায়ের প্রশ্নগুলো কোনো গুরুত্ব পায় না। বরং তারা এমন একটি সমাজ তৈরি করেছে যেখানে ভয়, নিপীড়ন, এবং অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর – সবাই যেন একটি নাটকের চরিত্র। তাঁরা সংলাপ বলেন, কিন্তু কাজ করেন না। তাঁরা আশ্বাস দেন, কিন্তু প্রতিকার আনেন না। আর এই নাটকের পরিচালক সেই ক্ষমতাধর, যিনি জনগণের ভোট ছাড়াই রাষ্ট্র চালান, যাঁর শাসনব্যবস্থায় ন্যায়বিচার একটি বিলাসিতা।

এই ঘটনাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে একটি অবৈধ শাসনব্যবস্থা সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধের বিচারহীনতা শুধু অপরাধীদের সাহসী করে তোলে না, বরং ভুক্তভোগীদের আরও নিঃসঙ্গ করে তোলে। এই নিঃসঙ্গতা, এই ভয়, এই অনিশ্চয়তা – সবই সেই শাসনব্যবস্থার উপহার, যা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত