Sunday, November 30, 2025

গুগলও ফিরিয়ে দিচ্ছে ইউনুসের মামার বাড়ির আবদার

Share

গুগলের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে একটা তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা ইউনুস সরকারের আসল চরিত্র পরিষ্কার করে দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫, মাত্র ছয় মাসে এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার গুগলের কাছে ২৭৯টি অনুরোধ পাঠিয়েছে কনটেন্ট সরানোর জন্য। এর মধ্যে ১৮১টি, মানে প্রায় ৬৫ শতাংশ, শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ।

এই সংখ্যাটা দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে এখানে কী চলছে। একটা সরকার যদি ছয় মাসে ১৮১ বার চেষ্টা করে নিজেদের সমালোচনা ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে, তাহলে সেই সরকার হয় অপরাধী, না হয় চরম অনিরাপত্তায় ভুগছে। ইউনুসের ক্ষেত্রে দুটোই প্রযোজ্য। যে লোক ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলো “আমাদের সমালোচনা করুন”, সেই লোকই এখন দিনরাত চেষ্টা করছে সমালোচনামূলক কনটেন্ট মুছে দিতে। এর চেয়ে বড় ভণ্ডামি আর কী হতে পারে?

আরো মজার ব্যাপার হলো, গুগল তাদের এই অনুরোধের ৬৫ শতাংশে বলেছে যথেষ্ট তথ্য নেই। মানে সরকার এমনিতেই বলছে “এটা সরাও”, কোনো ধরনের প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই। এটা কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটা স্রেফ দাদাগিরি। “আমরা চাই না এটা থাকুক, সরাও” টাইপ মানসিকতা। এই হলো তাদের গণতন্ত্র, এই হলো তাদের বাকস্বাধীনতা।

এখন ভেবে দেখুন, ২০২৪ সালের জুলাইতে যা হয়েছিলো সেটা কোনো গণ-অভ্যুত্থান ছিলো না, ছিলো সুপরিকল্পিত দাঙ্গা। বিদেশী টাকার প্রবাহ, জঙ্গি সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তা আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন, এই তিনটা মিলে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। রাস্তায় রক্ত ঝরলো, মানুষ মরলো, সম্পত্তি লুট হলো, আর শেষে এই মহাজন ইউনুস ক্ষমতায় বসলো। কোনো নির্বাচন ছাড়া, কোনো জনগণের রায় ছাড়া।

তারপর যে নাটকটা দেখানো হলো সেটা আরো হাস্যকর। ইউনুস সাহেব বললেন, “আপনারা আমাদের সমালোচনা করুন, আমরা গণতন্ত্র চাই, বাকস্বাধীনতা চাই।” মানুষ তো সেই কথা শুনে খুশি। ভাবলো হয়তো সত্যিই কিছু পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই আহ্বানের পেছনে লুকিয়ে ছিলো সম্পূর্ণ বিপরীত এজেন্ডা। সমালোচনা করলেই ধরপাকড়, গুম, রিমান্ড, নির্যাতন। এটাই তাদের বাস্তবতা।

গুগলের এই প্রতিবেদন যে জিনিসটা স্পষ্ট করে দিলো তা হলো, ইউনুস সরকার জনগণকে ভয় পায়। ভয় পায় মানুষের কথা শুনতে, ভয় পায় সমালোচনা শুনতে, ভয় পায় সত্য প্রকাশ পেতে। এজন্যই তারা ইন্টারনেটে প্রতিটা পোস্ট, প্রতিটা ভিডিও, প্রতিটা লেখা নজরদারিতে রাখছে। যে কেউ কিছু বললেই সেটা সরানোর চেষ্টা চলছে। এটা কোনো আত্মবিশ্বাসী সরকারের লক্ষণ নয়, এটা ভীতসন্ত্রস্ত একনায়কের লক্ষণ।

এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে। একটা বৈধ সরকার, যে সরকার জনগণের ভোটে এসেছে, যাদের পেছনে আসলেই মানুষের সমর্থন আছে, তারা সমালোচনা নিয়ে এত মাথা ঘামায় না। কারণ তারা জানে তাদের কাজ মানুষের পক্ষে, তাদের অবস্থান শক্ত। কিন্তু যে সরকার চক্রান্ত করে, দাঙ্গা বাঁধিয়ে, মানুষ মেরে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের তো ভয় পাওয়ার কথাই। তারা জানে তাদের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই, কোনো আইনি বৈধতা নেই। তাই যে কোনো সমালোচনা তাদের কাছে হুমকি মনে হয়।

এই ২৭৯টি অনুরোধের মধ্যে ১ হাজার ২৩টি আইটেম ছিলো। মানে হচ্ছে প্রতিটা অনুরোধে একাধিক কনটেন্ট সরানোর চেষ্টা। পুরো একটা সিস্টেম্যাটিক ক্যাম্পেইন চলছে জনগণের কণ্ঠরোধ করার। এটা আর সাধারণ কনটেন্ট মডারেশন নয়, এটা সেন্সরশিপ। এটা স্বৈরতন্ত্রের খোলাখুলি প্রয়োগ।

গুগল যে তাদের বেশিরভাগ অনুরোধ মানেনি, এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ গুগল একটা আন্তর্জাতিক কোম্পানি, তাদের নিজস্ব নীতিমালা আছে। তারা যদি দেখে যে অনুরোধে যথেষ্ট ভিত্তি নেই, তাহলে তারা মানে না। এটা প্রমাণ করে যে ইউনুস সরকারের বেশিরভাগ অনুরোধই ছিলো অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন, শুধুমাত্র সমালোচনা বন্ধ করার জন্য। যদি সত্যিই কোনো আইনি সমস্যা থাকতো, কোনো অপরাধমূলক কনটেন্ট হতো, তাহলে গুগল সরাতো। কিন্তু তারা সরায়নি, কারণ সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সরকার আর কতদিন এভাবে চলবে? মানুষ চুপ থাকবে কতদিন? তারা যত চেষ্টাই করুক, সত্য চাপা থাকে না। ইন্টারনেটে কনটেন্ট সরানোর চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু মানুষের মনে যে ক্ষোভ, যে অসন্তোষ, সেটা সরানো যায় না। প্রতিদিন মানুষ দেখছে তাদের প্রকৃত চেহারা। দেখছে যে যারা গণতন্ত্রের কথা বলেছিলো, তারাই হয়ে গেছে সবচেয়ে বড় স্বৈরাচারী।

ইউনুস আর তার দলবল ভুলে গেছে যে ভয় দিয়ে, দমন করে কখনো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যায় না। ইতিহাসে এমন অনেক একনায়ক এসেছে, যারা ভেবেছিলো তারা সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সবাই পতন হয়েছে। কারণ জনগণের শক্তি শেষ পর্যন্ত সব স্বৈরাচারের চেয়ে বড়।

এই গুগল প্রতিবেদন একটা প্রামাণ্য দলিল। এটা প্রমাণ করে যে এই সরকার কতটা অগণতান্ত্রিক, কতটা দমনপীড়নমূলক। যখন ইতিহাস লেখা হবে, এই তথ্য থাকবে স্থায়ীভাবে। মানুষ দেখবে যে কীভাবে একটা অবৈধ সরকার চেষ্টা করেছিলো জনগণের মুখ বন্ধ করতে, কীভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছিলো।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত