ইউনুস-ওয়াকার কি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন?

Share

মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আর সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যেগুলো শুনলে যে কারো মাথায় হাত যাবে। চীনের সাথে ড্রোন তৈরির চুক্তি, পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা, লালমনিরহাটে সেগুলো বসানোর পরিকল্পনা। এসব শুনে মনে হচ্ছে কোনো দায়িত্বশীল সরকার এগুলো করছে না, বরং এমন কিছু মানুষ করছে যারা হয় ভূরাজনীতির বেসিক বিষয়গুলো বোঝেন না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশকে একটা বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছেন।

ভারতের সীমান্তঘেঁষে লালমনিরহাটে চীনা প্রতিরক্ষা সিস্টেম বসানোর মানে কী? এটা কি শুধুই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নাকি ভারতকে একটা সরাসরি বার্তা পাঠানো? যে দেশের তিন দিক ভারত দিয়ে ঘেরা, যে দেশের অর্থনীতি ভারতীয় বাজার আর ট্রানজিটের ওপর নির্ভরশীল, সেই দেশ এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে কী আশা করছে? নিরাপত্তা নাকি আত্মঘাতী রাজনৈতিক বিবৃতি?

ভারত যদি এটাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে সেটা কি ইউনুস সাহেব আর জেনারেল ওয়াকার ভেবে দেখেছেন? ভারত কি চুপচাপ বসে থাকবে যখন তাদের সীমান্তের কাছে চীনা সামরিক প্রযুক্তি মোতায়েন হবে? যদি ভারত এটাকে যুদ্ধের মতো কিছু মনে করে বসে, তাহলে বাংলাদেশের কী অবস্থা হবে? আমাদের সামরিক শক্তি ভারতের সাথে তুলনীয়ই না। একটা সংঘাত শুরু হলে সেটা শেষ হবে বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতিতে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। ভারত জড়িয়ে পড়লে রাশিয়া আসবে তাদের পুরনো মিত্রকে সমর্থন দিতে। রাশিয়া আসলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না, তারাও নাক গলাবে। আর তখন বাংলাদেশ হয়ে যাবে পরাশক্তিদের লড়াইয়ের মাঠ, ঠিক যেমন হয়েছে ইউক্রেন, সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান। আমরা কি সেই দেশগুলোর অবস্থা দেখিনি? ধ্বংসস্তূপ, লাখো মানুষের মৃত্যু, কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। সেটাই কি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভাগ্যে?

প্রশ্ন হলো, কেন এই আত্মঘাতী পথে হাঁটছে এই অন্তর্বর্তী সরকার? মুহাম্মদ ইউনুস যিনি একজন নোবেল বিজয়ী, যার কথা শোনার সময় মানুষ ভাবতো এই মানুষ বুঝি দেশের কল্যাণ চান, সেই মানুষই কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা পুরো দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে? কোন যুক্তিতে, কার স্বার্থে?

২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা হয়েছিল সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। সেটা ছিল সুপরিকল্পিত একটা দাঙ্গা যেখানে বিদেশি অর্থ, জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন ছিল। নির্বাচিত একটা সরকারকে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন ইউনুস আর তার সহযোগীরা। এটা অবৈধ ক্ষমতা দখল, যতই সুন্দর কথায় সাজানো হোক না কেন।

এখন সেই অবৈধ সরকার যা করছে তা আরও ভয়ংকর। তারা যেন ইচ্ছা করেই বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাতের জায়গা বানাতে চাইছে। চীন ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে ভারতকে চাপে ফেলার এই খেলা বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা আনবে না, উল্টো ডেকে আনবে ধ্বংস।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। সেনাবাহিনীর কাজ হলো দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা, দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে দেশের নিরাপত্তার চেয়ে অন্য কোনো এজেন্ডা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন আজ যে অবস্থায় আছে, সেটা একদিনে হয়নি। সেখানেও এভাবেই শুরু হয়েছিল। পরাশক্তিদের রেষারেষির মাঝে পড়ে একটা দেশ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বাংলাদেশ কি সেই পথেই হাঁটছে? ইউনুস আর তার সহযোগীরা কি চাইছেন বাংলাদেশকে পরবর্তী ইউক্রেন বানাতে?

এই সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নেই, কোনো নির্বাচনী বৈধতা নেই। তারা যা করছে তা জনগণের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের আর তাদের পৃষ্ঠপোষকদের স্বার্থে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন বিপজ্জনক জুয়া খেলছেন। কিন্তু এই জুয়ার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকে, যারা কোনো দোষ ছাড়াই হয়ে উঠবে পরাশক্তিদের খেলার বলি।

বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ চায় না, ধ্বংস চায় না। তারা চায় শান্তি, উন্নয়ন আর একটা স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনুস আর তার সহযোগীরা যেদিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা এই সাধারণ আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা যেন ভুলে যাচ্ছেন বা হয়তো পাত্তাই দিচ্ছেন না যে ১৭ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। এই দায়িত্বহীনতা আর বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করা দরকার, নইলে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাবে আগেই।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত